সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এমন দুর্নীতি হয়েছে যা এখনও অলক্ষ্যে রয়েছে ---------------------------------------রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমন

এমন দুর্নীতি হয়েছে যা এখনও অলক্ষ্যে রয়েছে 
---------------------------------------
রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমন দুর্নীতি করে দিয়ে গেছে এই সরকার আমি বিজেপির নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ করবো, এই দুর্নীতি খুঁজে তার রিপেয়ার করে সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ সরকার দাঁড় করাতে একটা গোটা পাঁচ বছর চলে যাবে হয়তো। অথচ আমাদের মধ্যে একদল লোক ডিএ ডিএ করে এমন করছেন যে, বিজেপি সরকার বুঝি এসেছে তাদের ডিএ দিতে। কী ভয়ানক অবস্থা অনেকের জানা নেই। আর পাঁচটা বছর থাকলে পশ্চিমবঙ্গ নয়ছয় হয়ে যেতো। নয়ছয় এমন হয়েছে যে, সরকার ভেতর পরিষ্কার করবে না বাইরে আগে নতুন কাজ করবে ?
আমার কাছে নেওয়া হয়েছে মাত্র ছ-মাস আগে, এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা আমার পৈতৃক বাড়ির মিউটেশনের জন্য। এই টাকা নাকি নবান্নেও পৌঁছে গেছে। কেবল টিভি ব্যবসাকেও ছাড়েনি তৃণমূল। প্রতিটি নবনির্মিত ফ্ল্যাট থেকে পেয়েছে টাকা। হাওড়ায়
একজন প্রোমোটার বলছেন, ধাপে ধাপে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হয় এক একটা ফ্ল্যাট তুলতে, তাই তিনি এক্সট্রা তলা তুলেছেন। আমি দেখলাম মধ্য হাওড়ার কালীবাবু বাজারের কাছে একটা দেওয়ালে একটি বিজেপির নামে সদ্য ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে তাতে 
নাম রয়েছে এক তৃণমূল নেতার। রাতারাতি পাল্টে গেছে নেতৃত্ব। কীভাবে হয়েছে জানা নেই। এত এত টাকা তৃণমূলের ছোটবড় নেতা থেকে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব তুলেছে যার সীমা পরিসীমা নেই। এই বেহাল স্রোত বিজেপি কীভাবে আটকাবে? কীভাবে সামলাবেন জানিনা। মুড়ি মুড়কির মতো টাকা উড়েছে। রোজ 
গান-বাজনা জলশা কবি সম্মেলন। সিপিআইএম জমানার কবিরাও সংবর্ধনা পেয়েছে তৃণমূল আমলে। তাদেরকে মিষ্টির বাক্স ছুঁড়ে দিয়েছে তৃণমূলের ছোটখাটো নেতা লুটেছে বামেদের কবিও। এইসব কবি সাহিত্যিকরা তাকিয়ে রয়েছে কবে বিজেপির অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা পাবে, ডাক পাবে ! রক্তদান মহৎ কাজ কিন্তু এখানেও তৃণমূল ঢুকে পড়েছিল ব্যাপকভাবে। তৃণমূলের ঘোষকদের কি সব অহংকার। নাচিয়ে গাইয়ে সব তৃণমূলের। যাকে দেখলাম বাম আমলের মধু খেতে, তারা তৃণমূল আমলের একেবারে হিরো। 
শিক্ষক থেকে কবিরা সবচেয়ে বেশি ছুঁকছুঁক করছে, কবে বিজেপির এইরকম সংগঠন তৈরি হয় তার অপেক্ষায় রয়েছে। গেরুয়া আবীর মেখে ইতিমধ্যে ছবি তোলা হয়ে গেছে। একটা ভালোমতো রাকেট তৈরি হয়েছে এর সঙ্গে ওর। বিজেপি নেতৃত্ব এখনই পথে নেমে পড়ুন। কাজ জানে এমন লোকজন খুঁজে নিন। এইভাবে বসে থেকে সময় নষ্ট করবেন না। পাড়ায় পাড়ায় প্রাথমিক সদস্য কারা রয়েছে তাদের খোঁজ করুন। সৎ কিনা খোঁজ নিন। বড় দেরি হচ্ছে কিন্তু কারণ আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী জানেন কোথায় কোথায় কত কত ক্ষতি হয়ে রয়েছে। ক্ষতির থেকে বলা দরকার ক্ষতবিক্ষত পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে চলে গেছে। আর একমাস পরে বেতন দিতে পারার মতো অবস্থায় ছিল না বিগত সরকার, এখন কলকাতার লোকজন ডিএ-এর কিছু মাত্র হাতে পায়নি। বিপুল রিপেয়ারিং বাকি। বিজেপির লোকজনকে ভাগ করে পাড়ায় ছড়িয়ে দিন। কাদের নেবেন কাদের বাদ দেবেন তালিকা তৈরি করুন। পর্যাপ্ত ভাবে নিজেদের ট্রেনিং দরকার। কারণ বিজেপি যারা করতেন সকলের কিন্তু সরকারের চুরি চামারি ধরার মতো সামর্থ্য বা জ্ঞান নেই। কারণ প্রশাসনে আপনাদের কেউ ছিল না তার ওপর ডিজের সঙ্গে আবীর মেখে নাচানাচি করাটাই বিজেপি করা নয়। এই আনন্দের দরকার রয়েছে কিন্তু বেশি দিন ধরে করলে চলবে না।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আনন্দ উৎসব শেষ হওয়া দরকার। একটা সুষ্ঠু দল গঠন করা দরকার মন্ডলে। সময় নষ্ট আর করবেন না। আজ ১৮ দিন হয়ে গেছে রেজাল্ট বেরিয়েছে। প্রতিটি মন্ডলে বিজেপির সদস্যদের কটা সভা হয়েছে জানা নেই। বিজেপির সদস্যরা এখনও পাড়ায় পাড়ায় প্রতিটি নাগরিককে চেনেন না। সভা করলেই হলো না, প্রশাসনিক কাজ জানা লোক বার করে নিতে হবে এখনই। আমার ধারণা বিজেপির নেতা থেকে সদস্য কেউই তেমন অভ্যস্ত নন প্রশাসনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংগঠন কীভাবে এগোবে এই চিন্তা করার। শুধুমাত্র বক্তৃতা নয়, সামনে রয়েছে মিউনিসিপ্যালিটির নির্বাচন। সংগঠন এতদিন যা করেছেন, ভুলে যান। এমন যেন মনে না 
হয় আমরা তো দাঁতে দাঁত চেপে গণনা কেন্দ্র উৎরে দিয়েছি। তাই আমরা সব পারবো। মনে রাখতে হবে ভোটে জনগণ এগিয়ে রেখেছিল বলে আজ পেরেছেন, তা না হলে ২০২১ হতে বেশি দেরি হতো না। এক একটা দপ্তরের মধ্যে চুরি চুরি আর চুরি। এই ব্যাপকতা কতটা তা আন্দাজ করার মতো ক্ষমতা বা আইডিয়া বিজেপির সদস্যদের নেই এমনকি বহু নেতা-নেত্রীর নেই। তৃণমূলের নেতারা ও কর্মীরা কিন্তু কাজ জানতো না, কিন্তু তারা যা করে গেছে তা আরও ভয়াবহ ভয়ঙ্কর। তারা এক একজন সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে নেক্সাস গড়ে তুলে ছিল এবং প্রশাসনিক কাজ সব উল্টোপাল্টা করে দিয়ে গেছে। চুরি ধরতে ধরতে এই সরকারের জান কয়লা হয়ে যাওয়ার জোগাড় এখন। পাশাপাশি কিন্তু সরকারের নতুন কাজ করার জন্য লোকজনকে বাইরে থেকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সেই স্তরের কর্মী বিজেপির নেই। তদারকি করার ট্রেন্ড কর্মী দরকার তবেই দল ও সরকার এক হয়ে একটা দারুন রাজ্য সরকার উপহার দেবে বিজেপি। রাজস্ব আদায় আয়ও যাতে বাড়ে সেইভাবে কর্মী তৈরিতে বিজেপির সংগঠনকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে। দুদিনেই বিজেপির রাজস্ব এতটা বেড়ে যেতে পারে এটা জনগণ কিন্তু জানতো, যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। দু হাত ভরে ভোট দিয়েছে জনগণ। কিন্তু যারা বিজেপির বিরোধী অথচ ভোট দিয়েছিলেন তাদের ধারণা ছিল না যে, চুরির পরিমাণ কত ? কতরকম ভাবে তৃণমূল চুরি করেছিল। না জানলেও তাঁদের অনেকেই ভোট দিয়েছেন, কারণ তা যদি না দিত তাহলে অভিষেকের সচতুর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তৃণমূলকেই দেবতা ভেবে আরও অনেকেই শেষ পর্যন্ত এই ৪১% ভোটারের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতো। কিংবা বামেদের দিয়ে ফেলেতো, কংগ্রেসকে ভোট দিত। তাঁরাও ভাবতে পারেননি অভিষেকের ওই উত্তপ্ত চোখ রাঙানির পরও শুধু হিন্দু ভোটাররা ছিল বলে এ যাত্রায় বিজেপিকে অনেক মিলে আজ বাঁচিয়ে দেবে। সঙ্গে বহু শুভবুদ্ধি মানুষের ভাবনাচিন্তার সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন হয়েছিল বলে, তাই মানুষ জানতে পারছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে কতটা ছড়িয়ে গেছে দুর্নীতি এই তৃণমূলের আমলে। এমনকি যে সমস্ত শিক্ষক বিভিন্ন পদে বসেছিল তারা দুইদিক থেকে বেতন তুলেছেন। এই দুর্নীতি এখনও খবর কাগজে বের হয়নি। এইসবও বের হবে। কত কত শিক্ষক যে স্কুলে না গিয়ে শুধু মাত্র নেতাগিরি করেছে, দিল্লি মুম্বাই বিদেশে গেছে ছুটি না নিয়ে। কতকিছু যে হয়েছে সেইসব বাছাই করতে সরকারের অত কর্মচারী নেই। যা দুর্নীতি হয়েছে তার ২% এখন বেরিয়েছে, সমস্ত কিছু টেনে বার করা যেমন দরকার তেমনি দরকার সরকারকে সাপোর্ট করার মতো বিজেপির সৎ সৈনিক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যাঃ অলোককুমার কুণ্ডু

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না য...

তৃণমূল গ্রামেগঞ্জে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে

           অভিষেক না হয় ধরে নেওয়া হলো একটা আনাড়ি, টাকার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি, ছোট থেকে অঢেল হাতে টাকা পয়সা বাড়িতে আসতে দেখে অর্থের পেছনে ছুটেছিল। ভালোমন্দ পেয়ে, আরো খাই আরো খাই করেছে। কিন্তু যে মমতা ব্যানার্জী দিনের পর দিন বাম জমানার খুন জখমের বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়েছিলেন একদা। লড়াকু নেত্রী হিসেবে উঠে এসে তিনি কীভাবে মানুষকে দিনের পর দিন নিপীড়ন করতে দেখেও সব ছেড়ে দিলেন গা ভাসালেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পুলিশ অফিসার, কোনও এমন কেউ একজন ছিলেন না, যিনি একটি বারও সতর্ক করলেন না তাঁকে। এত কাগজে লেখালিখি হলো, এত মিডিয়া কভারেজ হলো, কিছুই তিনি দেখলেন না। লকাপে পিটিয়ে মারা হলো, গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে গেল একের পর একটা পরিবার। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্ট এত করে বললেন বিচারপতিরা। সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী ভ্যানিশ করে দিলেন। এত রিগিং হলো। ভোট দিতে পারলো না শত শত লোক। খুনের পর খুন হয়ে গেল। বাড়ির পর বাড়ি জ্বললো। সব উনি দেখেও দেখলেন না। একটা ঘটনা নয়।             প্রতিটি জেলায় শত শত ঘটনাকে এইভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী দেখেও দেখলেন না ...

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে আর কিছু হওয়ার নেইঃ অলোককুমার কুণ্ডু

মমতা ব্যানার্জীর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার ওপর তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে এখনও তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে, তিনি হারতে পারেন না। অথচ আমার যারা লেখা পড়েন তাঁরা জানেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যখন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেদিন মঞ্চ থেকে বললেন তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন দখল করবে। সঙ্গে সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকে লিখলাম, তৃণমূল ৮০ টার বেশি পাবে না। এই ৮০ টা হিসেব করেছিলাম ৮৫টি মুসলমান সিটের দিকে তাকিয়ে। তার মধ্যে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ফস্কে বেরিয়ে গেলেন। আমার ধারণার বাইরে হলেও এইসব এরিয়ায় বেশ কিছু মুসলমান ভোট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ফলে সমস্ত এলাকার মতোই, এইসব এলাকার ভোটারদের দুভাবে প্রভাবিত করার ব্যাপক একটা চেষ্টা করা হয়েছিল, তৃণমূলের পক্ষে। ব্রেইনওয়াশ ও হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায় এবং মানুষকে, মমতা ব্যানার্জীর বোকা বানানোর দীর্ঘ কৌশল জানা রয়েছে। তিনি এই কৌশলটি অবলম্বন করে একের পর এক "ভাতা" সৃষ্টি করে গেছেন। এই খুচরো খুচরো ভাতা দিয়ে...