সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে আর কিছু হওয়ার নেইঃ অলোককুমার কুণ্ডু

মমতা ব্যানার্জীর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার ওপর তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে এখনও তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে, তিনি হারতে পারেন না। অথচ আমার যারা লেখা পড়েন তাঁরা জানেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যখন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেদিন মঞ্চ থেকে বললেন তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন দখল করবে। সঙ্গে সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকে লিখলাম, তৃণমূল ৮০ টার বেশি পাবে না। এই ৮০ টা হিসেব করেছিলাম ৮৫টি মুসলমান সিটের দিকে তাকিয়ে। তার মধ্যে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ফস্কে বেরিয়ে গেলেন। আমার ধারণার বাইরে হলেও এইসব এরিয়ায় বেশ কিছু মুসলমান ভোট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ফলে সমস্ত এলাকার মতোই, এইসব এলাকার ভোটারদের দুভাবে প্রভাবিত করার ব্যাপক একটা চেষ্টা করা হয়েছিল, তৃণমূলের পক্ষে। ব্রেইনওয়াশ ও হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায় এবং মানুষকে, মমতা ব্যানার্জীর বোকা বানানোর দীর্ঘ কৌশল জানা রয়েছে। তিনি এই কৌশলটি অবলম্বন করে একের পর এক "ভাতা" সৃষ্টি করে গেছেন। এই খুচরো খুচরো ভাতা দিয়ে জনগণকে বোকা বানিয়ে রাখার এক বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইপ্যাকের। এছাড়াও এই পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের মধ্যে বোঝানোও হয়েছিল, কিছু মানুষের হাতে দেওয়া হয়েছিল অর্থ। সিপিআইএম ও তৃণমূল দুই দলের পক্ষ থেকে যে ব্যাপক অপপ্রচার করা হয়েছিল, বিজেপিকে ভোট দিলে সমূহ ক্ষতি ও সর্বনাশ হতে পারে। এই যে ভুল বোঝানোর ক্ষমতা যতটা প্রয়োগ যে যে এরিয়ায় তৃণমূল ও তার দোসর সিপিআইএম ব্যাপকভাবে করতে পেরেছিল, সেখানে তৃণমূল খানিকটা ভালো ভোট পেয়েছে। মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষ সেই স্রোতে জিতে গেছেন। কিন্তু ভোটের পরে তৃণমূল দলের সকলে বুঝলেও, পিসি-ভাইপো এখনও বিষয়টি বুঝতে পারেননি যে, তাঁরাও হারতে পারেন। তাদের পায়ের নিচে কতটা মাটি সরে গিয়েছিল তা তারা আন্দাজ করেছিলেন বলেই না, " দিকে দিকে বিজেপির প্রার্থীকে ঘিরে ধরে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে আটকানো হয়েছিল" ব্যাপক আকারে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল তৃণমূলের পক্ষে। কিন্তু তাঁরা ভেবেছিলেন, ওই কর্মসূচি বোধহয় তাদের পক্ষে ভালো হবে। কিন্তু ওইভাবে প্রচারে বাধা সৃষ্টি কিন্তু জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। তার ওপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রামে গ্রামে তার যে, ডায়মণ্ডহারবার মডেল চালু করেছিলেন তা নির্বাচন কমিশন ৯০% ভেস্তে দেওয়ার ফলেই যে, তাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে তা এতদিনেও মমতা ব্যানার্জীর বোধগম্য হয়নি। কারণ ২০১১ থেকে মমতা ব্যানার্জী আর তার তৈরি মা-মাটি-মানুষ স্লোগানটিকে তিনি আর কখনও তেমন নেড়েচেড়ে দেখেননি। ভাইপো ও আইপ্যাকের ওপর জনগণের মর্জিকে ছেড়ে দেওয়াতেই যে, মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে জনগণের মনের ফারাক ঘটে গেছে এই সহজ তথ্যটি খুঁজে দেখার চেষ্টা না করে এখন প্রতিদিন তিনি ফেসবুক লাইভে বসবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অপরপক্ষে তিনি চাকরি চুরিকে কখনও পাত্তা দেননি, তিনি পাত্তা দেননি প্রশাসনিকভাবে নানা অসঙ্গতিকে, দিকে দিকে তৃণমূল দলটা যে, তোলাবাজিতে নাম লিখিয়েছে তাকেও তিনি বিশেষ আমল দেননি। সরকারের প্রকল্পগুলি যে জনগণের কাছে পৌঁছতে পারছিল না, সেখানেও তিনি কোনোভাবেই নজর রাখেননি। প্রচার সর্বস্ব একটা মনগড়া প্রশাসনকে জনগণের মনের মধ্যে প্রবেশ করাতে গিয়েছিলেন এবং সকলে সেটা ধরে ফেলেছিলেন। এইসব ফাঁকি ধরার মতো মানসিক স্থিতি তার মধ্যে কখনও ছিল না। কয়েকজন অফিসার ও নিজের হম্বিতম্বি নিয়ে গত ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গকে যে, ডুবিয়ে দিয়েছিলেন তা এখনো তাঁর উপলব্ধিতে স্থান পায়নি। এমনিতেই তার বয়স হয়েছে, বেকার সমস্যা এতটাই বাড়িয়ে ফেলেছিলেন যে, একটা গোলকধাঁধায় পড়ে গিয়েছিলেন। সারা পশ্চিমবঙ্গজুড়ে গান, বাজনা, কবি সম্মেলন ও স্মারক বিতরণ ও সংবর্ধনা জ্ঞাপনকেই
রাজ্যপাঠ মনে করেছিলেন। শেষে দুম করে বেকার ভাতা দিয়ে বেকারদের মনে একটা তীব্র ক্ষোভের
সৃষ্টি করে ফেলেন। তাকেই চ্যালেঞ্জ করতে একরকম বিজেপিকে বাধ্য করা হয়, অন্নপূর্ণা যোজনা ও যুবশক্তির তিন তিন ছয় হাজারের ভাতা পরিকল্পনায় পথে নামতে এবং জনগণের তা মনে ধরে যায়। তৃণমূলের ব্যর্থ পরিকল্পনা ও জোরজবরদস্তি ভোট করানো এবং অভিষেক ব্যানার্জীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ দিকে দিকে তৃণমূলকে হারিয়ে দেয় সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেস ও সিপিএমকেও একটা বার্তা দেয় জনগণ।‌ তাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন ফেসবুক লাইভ শুরু করে জনগণকে নিজের দিকে টানার যে চেষ্টা করে চলেছেন তা এখন মোটেও কাজে আসবে না। কারণ কিছুতেই যে, তৃণমূল আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না এটা আপামর জনসাধারণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও তৃণমূল নেত্রী তা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না, কারণ তাঁর জীবনের ধারা হচ্ছে পাদপ্রদীপের আলোয় থাকা। তাই এই ফেসবুক লাইভের পরিকল্পনা। যদিও একমাত্র সিপিআইএমের এইরকম ঢাক বাজানো পছন্দ হলেও বাংলার জনগণ মমতা ব্যানার্জী ও বামেদের ঝেড়ে ফেলে দিয়েছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে হাজার হাজার বিরূপ মন্তব্য জমা পড়তে শুরু করেছে। আখেরে তা তৃণমূলের কর্মীদের কাছে সমূহ ক্ষতি স্বরূপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ তাদের সামনে নেতৃত্ব হতাশা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেননি। দলটাকে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে বাহিত করে রাজনৈতিক খাতা থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিল এক প্রকার। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যাঃ অলোককুমার কুণ্ডু

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না য...

তৃণমূল গ্রামেগঞ্জে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে

           অভিষেক না হয় ধরে নেওয়া হলো একটা আনাড়ি, টাকার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি, ছোট থেকে অঢেল হাতে টাকা পয়সা বাড়িতে আসতে দেখে অর্থের পেছনে ছুটেছিল। ভালোমন্দ পেয়ে, আরো খাই আরো খাই করেছে। কিন্তু যে মমতা ব্যানার্জী দিনের পর দিন বাম জমানার খুন জখমের বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়েছিলেন একদা। লড়াকু নেত্রী হিসেবে উঠে এসে তিনি কীভাবে মানুষকে দিনের পর দিন নিপীড়ন করতে দেখেও সব ছেড়ে দিলেন গা ভাসালেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পুলিশ অফিসার, কোনও এমন কেউ একজন ছিলেন না, যিনি একটি বারও সতর্ক করলেন না তাঁকে। এত কাগজে লেখালিখি হলো, এত মিডিয়া কভারেজ হলো, কিছুই তিনি দেখলেন না। লকাপে পিটিয়ে মারা হলো, গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে গেল একের পর একটা পরিবার। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্ট এত করে বললেন বিচারপতিরা। সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী ভ্যানিশ করে দিলেন। এত রিগিং হলো। ভোট দিতে পারলো না শত শত লোক। খুনের পর খুন হয়ে গেল। বাড়ির পর বাড়ি জ্বললো। সব উনি দেখেও দেখলেন না। একটা ঘটনা নয়।             প্রতিটি জেলায় শত শত ঘটনাকে এইভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী দেখেও দেখলেন না ...