এক নামকরা বক্তা বলছেন, গড়ের মাঠে নিয়ে গিয়ে অভিষেক ব্যানার্জীকে টাঙিয়ে এনকাউন্টার করে দিলেও জনগণ প্রতিবাদ করবে না, বরং সমর্থন জানাবেন। বিষয়টি এতটা নিষ্ঠুর করে আমরা কেউ কিন্তু ভাবতে চাই না। কিন্তু মাননীয় কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে আজ এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থ্রেট কালচারের বিষয় নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। কিন্তু যার ৭ নভেম্বর ১৯৮৭ তে জন্ম বর্তমান বয়স যার ৩৮ বছর, তিনি নাকি কলকাতার বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে হায়ার সেকেন্ডারি পাশও করেছিলেন। তৃণমূলের সরকারে আসার সময় ২০১১ সালে কিছু পড়াশোনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করত কি না ঠিক কেউ জানেন না। যাইহোক দিল্লি থেকে এমবিএ করেছেন অভিষেক। তিনি এখন ডায়মন্ড হারবারের এমপি। এখানে উল্লেখ্য যে, ২০০৭ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় বামেরা সবচেয়ে বেশি জমি হারাতে শুরু করে। ২০০৯-এ দক্ষিণ ২৪ পরগণা ও ডায়মন্ড হারবারে সবচেয়ে বেশি সভা হয় তৃণমূলের। কলকাতায় রিজানুর রহমানকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলমানরা মমতা ব্যানার্জীকে তাঁদের নিজেদের লোক বলে মনে করতে শুরু করেন। ২০১১-তেও বিপুল জয় ওইদিকে। দিকে দিকে ২০১১-এর পর তৃণমূলের লোকেদের পর্যন্ত আর তৃণমূলীরা ভোট দিতে দিত না। একেই বলা হচ্ছে "ডায়মন্ড হারবার মডেল।" প্রকৃতপক্ষে ঠিক মতো কেউ ভোট দিতে পারত না, ভোটকেন্দ্রে আগে থাকতেই লুকোনো ক্যামেরা থাকত, কোথাও থাকত আতর কখনও সেলোটেপ ইত্যাদি। আরামবাগে বামেরা আগে জিততো ৫ লাখে, বামেদের নিজস্ব স্টাইল ছিল ভোট করানোর, ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল জিততে শুরু করে ৭ লাখে। বলা ভালো অভিষেক জেতে। সারা ভারতে এত কম বয়সে এইরকম ভোটে জেতার জন্য খবর কাগজে তাকে যুবরাজ আখ্যায়িত করা হয় কখনও।
উল্লেখ্য যে, এই ডায়মন্ড হারবার মডেলের শিক্ষা নিয়ে, এইবারে মধ্য হাওড়ার বুকে বিজেপিকে একটাও পতাকা টাঙাতে তৃণমূল দেয়নি। এটা করার কারণ হচ্ছে জনগণকে দেখানো বিজেপির সংগঠন নেই।
এখন সেই মধ্য হাওড়ায় ( চৌধুরীবাগানে) রাতারাতি তৃণমূলের নেতারা বিজেপির হয়ে ফেস্টুন লাগাচ্ছে মধ্য হাওড়ায়, এহেন চমকপ্রদ ঘটনা চতুর্দিকে হয়েছে। এটা একটা উদাহরণ। ডায়মন্ড হারবারে পতাকা টাঙানো তো দূরের কথা, এতদিন পতাকা টাঙানোর কথা বলতে পারতেন না কেউ। এমনকি বাড়িতে কেউ এবিপি আনন্দের প্যানেল ডিসকাশন শুনতে পেতো না। ওইরকম কেউ টিভির অনুষ্ঠান দেখলে, তার ডাক পড়তো জাহাঙ্গীরের চেলা চামুণ্ডার কাছে। স্বয়ং তৃণমূলীদের ভোট দেওয়ার অধিকারও ছিল না ডায়মন্ড হারবারে। এই বিষয়টা হলো ডায়মন্ড হারবার মডেল, অর্থাৎ চরম দমন পীড়ন। ধীরে ধীরে এই মডেল চলছিল বাংলার সর্বত্র। মনে করা হয় আইপ্যাক বলে সংস্থাটি কীভাবে ভোটে মডেল ফলানো যায় তার ট্রেনিং দিয়েছিল। কিন্তু মানুষকে কতটা দমন পীড়ন করতে হয়, আর করতে নেই এই বিষয়টি বোঝার মতো আইডিয়া কখনও ছিল না অভিষেকের মধ্যে। তিনি কখনও রাজনীতি করেননি, তবে এই ভোট রাজনীতির মধ্যেই তিনি বড় হয়েছেন। মনে হয় না তিনি কখনও বিবেকানন্দর ছেলেবেলা, সুভাষ চন্দ্রের আজাদ হিন্দ ফৌজের গল্প কিংবা গান্ধীজির ম্যান পাওয়ার সম্পর্কে পড়াশোনা করেননি, রামায়ণ মহাভারত পড়েছেন বলে মনে হয় না। তিনি দেখেছেন মমতা ব্যানার্জীর একরোখা জীবন যাপনের ওঠাপড়া, বামেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের লড়াই। তাই অভিষেকের মনে স্নেহ মায়া মমতার বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে পরিবর্তে মানুষের হিংসার উল্লাসটি বেশি করে তার মধ্যে প্রবেশ করে।
তাই তার মধ্যে জন্ম নিয়েছে অন্য একরকম দর্শন, যেমন হলো, তাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। তা যেমন করে হোক। তৃণমূল ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে, মাথা কেটে ফুটবল খেলা হবে, একে বলা হতো, অভিষেকের ডায়মণ্ড হারবার মডেল। ওইসব গণতন্ত্র টনতন্ত্র আবার কি ? যেন তেন ভাবে জিততে হবে এবং অন্যান্যরা একটাও যাতে ভোট না পায় তার নাম ডায়মন্ড হারবার মডেল, তাই অভিষেক ক্রমশ হয়ে উঠেছিলেন একজন দুর্বিনীত রক্তপিপাসু নির্মম শাসকের দানবীয় মুখ। এক উচ্চাকাঙ্খী শাসক। যার চাওয়ার শেষ ছিল না। অনেকেই বলেন, পুলিশ, ডিএম, ওসি, বিডিওদের বদলি ছিল নাকি, অলক্ষ্যে অভিষেকের হাতেই। এটা যদি সত্যি হয় তবে একটা স্বাভাবিক দাম্ভিকতা শরীর ও মনে বাসা বাঁধবেই। দুর্দন্ডপ্রতাপ শাসক যেমন হতে হয়, অভিষেক বুঝি তার চেয়েও বেশি হতে চেয়েছেন। তিনি ২৮ টি গাড়ির কনভয় নিয়ে তিনি ঘোরেন। সেই গাড়িগুলো যেন প্রধানমন্ত্রীর মতো বা কাছাকাছি হয়।
একটা যেন রাজকীয় ঠাটবাট অভিষেকের চালচলনে,
তার বাড়ির গেট থেকে বাইরের দিকটি যেন চারিদিক থেকে দুর্গের মতো দেখতে হবে। এর সঙ্গে গ্রাম বাংলায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভয়ে হাড় হীম হয়ে যায় পুলিশের দমন পীড়নে, এইরকম অবাস্তব স্বপ্নচারী ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যা এই পশ্চিমবঙ্গে চলবে কি চলবে না, তার জনমত জরিপ করার কখনও ইচ্ছে হয়নি তার। তিনি এক রোখা একজন একনায়ক, যার প্রতিটি কথায় ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে প্রতিশোধের আহ্বান থাকে। তিনি কারও সঙ্গে দেখাও করেন না।
সমাজে কখনও মেশেন না, ইদানিং দক্ষিণী নায়কের ঢঙে গাড়ি ও বাসের মাথায় উঠে এমন ভাবে নাটক শুরু করেন যে, জনগণের অবাক হওয়ার জোগাড় হয়েছিল। তাকে দেখে জনগণ হাত নাড়বে, তার ছবি হাতে নিয়ে জনগণ উচ্ছ্বাস জানাবে যার স্বপ্ন দেখতে দেখতে তিনি দু দুবারের এমপি। অভিষেক বক্তব্য রাখেন আঙুল তুলে। ঠিক যে ভাবে মধ্যযুগে বর্বর শাসকদের তর্জনী দেখা যেতো ইতিহাসে। অভিষেক যেন ঠিক সেইরকম শাসক। যার হুকুম হচ্ছে শেষ কথা। তার বক্তব্যে থাকে মারো, ধরো, ঠ্যাঙানি, ভীতি প্রদর্শন করার শব্দগুলির সমন্বয়। মুসলমান সম্প্রদায়ের একদল যুবককে অভিষেক তার ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীতে নিযুক্ত করেছিলেন খানিকটা গেস্টাপো স্ট্যাইলে। তাঁর বক্তব্যে কখনও স্বামীজি, নেতাজি, বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায় এইসব ছিল না। বদলে ছিল, দেখে নেবো, লড়ে নেবো, মজা দেখাবো, গোছের শব্দের সমাহার। হামেশাই শ্মশানের মতো শব্দ খুঁজে পাওয়া যেতো তার বক্তব্যে এবং এই করতে করতে অভিষেক বললেন, শ্মশানে বৈদ্যুতিন চুল্লি বানিয়ে দেবেন, কারণ কিছু মানুষ হার্ট অ্যাটাক করবে নির্বাচনের পর, এরা গন্ধে-বর্ণে হিন্দু, যাদের মমতা ব্যানার্জী বলেন, " আমি আছি বলে না..."। ইতিমধ্যে তৃণমূল ২০২১/২০২৪-এ যেভাবে মানুষের মধ্যে অত্যাচার নামিয়ে এনে নিপীড়ন করেছিল অনেকেই মনে করেন তা করা হয়েছিল অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেলের অংশ স্বরূপ। অভিষেক ব্যানার্জীর যদি সমস্ত বক্তৃতা শুনে থাকেন, তবে দেখবেন মানুষকে, মানুষ বলেই মনে করতেন না তিনি। তার বক্তব্যের মূল সুর হচ্ছে হিংস্রতা। সুললিত ভাষায়, সংযমী বাক্য পশ্চিমবঙ্গবাসী কখনও শোনেনি। মনে হয় এইসব এসেছে অভিষেকের স্কুলিংয়ের বিশৃঙ্খলা থেকে, অভিষেকের পারিবারিক রাজনৈতিক বাতাবরণ থেকে। কারণ প্রথমত আজ যে মস্ত মস্ত বাড়ি অভিষেকের দেখা যাচ্ছে, তা সবই ২০১২-সালের পর হয়েছে। অত্যন্ত নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার ছিল অভিষেকরা, আমি দেখেছি। মমতা ব্যানার্জী ও তাঁর ভাইদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস করতে পারলে দেখবেন সেখানে কোনো টাকা পত্তর বেশি ছিল না তাঁদের। অতি সাধারণ পরিবার ছিল এই ব্যানার্জী পরিবার। অভিষেকের পড়াশোনার মান প্রথম দিকে এমন কিছু ছিল না, যা শোনা যায়। পরে হয়তো হয়ে থাকতে পারে। মমতা ব্যানার্জীর ভাই'রা তো রাজনীতি তেমন করতেন না, তাদের কাজ ছিল সাধারণ একটা ইঁট বালির গোলা চালানো, ব্যবসা করা। বড় ইমারতির ব্যবসা কিছু ছিল না। অভিষেক প্রথম ২০১৬ সালে মুকুল রায়ের সঙ্গে টক্কর লাগালেন তৃণমূল দলের অভ্যন্তরে এবং তার আগে "যুবা" খুলে শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা যুব সংগঠন গড়লেন। ২০১৬ সালে ভোটের কারিগর হিসেবে চতুর্দিকে পোস্টার পড়লো, অভিষেকের ছবি দিয়ে। অভিষেক যে খুব একটা কেতাদুরস্ত ভাবে মানুষ হয়েছেন বা তার খুব সোস্যাল নার্সিং হয়েছে, ভ্যালুয়েবেল জীবন দর্শন তাদের পরিবারের ছিল, এইরকম ভাবার তেমন কোনও কারণ নেই। ইতিমধ্যে নীল সাদা রঙের ব্যবসা এসে গেছে
(এই ব্যবসাও ২০১২ সালের পর)। অভিষেক ছোট থেকে দেখছেন তাদের বাড়িতে সব সময় লোকজন আসছে। কংগ্রেস বা তৃণমূলের দলটা প্রথম থেকেই হৈ-হুল্লোড়ে দল, শৃঙ্খলা পরায়ণ দল ছিল না কখনও। তাই খুব মার্জিত হওয়ার জন্য অভিষেককে, কে বা কখন সময় দিয়েছে। দিল্লিতে গিয়ে হয়তো আদব কায়দা ও ইংরেজি শিখেছেন কিছু। ব্যস ওইটুকু। ধীর স্থির ভব্য সভ্য হওয়ার পাঠ যে অভিষেক শিখবে সেই সময় তাদের পরিবারের তেমন কারও দেওয়ার মতো সময় ছিল না। অভিষেকের ছোটবেলাটা বাম আমল, কংগ্রেসের আন্দোলন সবসময় তাদের বাড়িতে একটা অশান্তির বাতাবরণ, কারণ তিনটি তো মাত্র ঘর। একটায় থাকেন মমতা ব্যানার্জী ও তাঁর মা, পাশাপাশি দুটি ঘরে মমতা ব্যানার্জীর দুই ভাই। অভিষেকের ছোটবেলাটায় তাদের সংসার মানেই মমতা ব্যানার্জীর আন্দোলন ও কংগ্রেস পরিত্যাগ, তৃণমূল তৈরি, কখনও হেরে যাওয়া, কখনও জেতা। পরিবারে সব সময় রাজনৈতিক অশান্তি গেছে। বাম আমলে তৃণমূলের ডাকে সবচেয়ে রেল রোকো হয়েছিল। রাস্তা ঘাট বন্ধ থাকতো। পরিবার, দল ও তার অফিস তো ওই একটা দুটো ঘরের মধ্যে। তৃণমূলের জন্মলগ্নেও মমতা ব্যানার্জীদের সংসারে শান্তি কই? একটা অফিস ছিল না দ্বিতীয় জায়গায়। ২০১১-তে জেতার পর মুকুল রায় তপসিয়ায় তৃণমূলের অফিস নেন। ২০১১-সালে অভিষেক ২৪ বছরের ছেলে। কিন্তু হাফপ্যান্ট পরে ছাদে ঘুরতেন একা। কোনো সঙ্গী ছিল না। একা একা থাকতেন এবং তার পর হয়তো দিল্লি যান। রাজনীতিতে ঢুকেই কিন্তু একটা বিষয় অভিষেক রপ্ত করে ফেলেন, তা হলো আলোচনার শীর্ষে থাকা যায় কীভাবে। ধীরে ধীরে মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারীকে সাইড করে ফেলেন মমতা ব্যানার্জীর সহায়তায় ও স্নেহে। ২০১৮ থেকে ফোর ফ্রন্টে চলে আসেন এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা ব্যানার্জীর বদান্যতায়। ২০২৪-এ দ্বিতীয়বার এমপি হয়ে ডায়মন্ড হারবার মডেল ও তার আগে ২০২১-এর নির্বাচনে আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তি করে নির্বাচনে ও গণনায় কারচুপি শুরু করার বিষয়ে অভিষেকের হাত থাকতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন আজ। তার আগে থেকেই তৃণমূলের উদ্যোগে যে চাকরি বিক্রি হয়, তাতেও যে অভিষেকের প্রত্যক্ষ উদ্যোগ রয়েছে এটাও তো অনেকেরই বিশ্বাস ও ধারণা। তখন কীভাবে এইসব হয়েছিল, মনে হয়, ভেতরের এইসব বিষয় মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরেছিলেন। ২০২১-এর আগেই তৃণমূলের চুরি চামারি প্রকাশিত হয়ে যায়।
মনে হয় এই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই আইপ্যাকের প্রস্তাবে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়ে, এক কথায় জনগনকে চুপ করিয়ে দেয় তৃণমূল। এইসমস্ত পর্বটি কিন্তু সুন্দর করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে পরিচালনা করেছিলেন বলে সকলের একটা সামান্য ধারণা হয়েছিল। তখন সকলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে রাজনীতির নবদিগন্ত ভাবতে শিখে যায় এবং জনগণ ভাবতে শুরু করে মমতা ব্যানার্জীর এটা বুঝি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কেউ কেউ ভাবেন যোগ্য পিসির যোগ্য ভাইপো বুঝি এই আবিষ্কারের সহযোগী। সকলে ভুলতে বসে ২০২১-এর রাজনৈতিক হিংসায় হিন্দুদের প্রতি অত্যাচারের কথা। কিন্তু ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষ বুঝতে পারে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে একজন খুনের ঘটনা ঘটানোর উদ্যোগী এবং অত্যাচারি। তাই তৃণমূলকে না সরালে আর জি করের মতো আরও ঘটনা এখানে ঘটতে দেরি হবে না। তাই প্রথমেই অভিষেককে হঠাও অভিযানে এই ২০২৬-এর নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু উদ্যোগ। তাই অভিষেককে হঠাতে গিয়ে অনেকেই তাদের সাধের মমতা ব্যানার্জী এবং তৃণমূলকে আজ স্বাভাবিক ভাবেই বিসর্জন দিয়েছেন। এই কাজ যে, যথার্থ হয়েছে আজ প্রতিটি মানুষ তা বুঝতে পারছেন। কারণ আসলে অভিষেক নামক একজন ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন তৈরি তো করেছিলেন স্বয়ং মমতা ব্যানার্জী। ২০২৬-এ তৃণমূল জিতলে রক্তগঙ্গা বয়ে যেতো গোটা বাঙলায়, অবশ্যই সকল মানুষের মধ্যে এইবার বোধগম্য হয়েছে। হাইকোর্টের গোচরে এসেছে মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করার এই ভয়ার্ত আহ্বান। হয়তো কেন তৃণমূল কংগ্রেস আর জীবনে কখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না, এই পিসি-ভাইপো নিজেদের হাতে গড়া দলকে যেভাবে কোপালেন। মমতা ব্যানার্জীর আন্দোলন নিয়ে লেখালিখি হয়তো আরও দু-দশক চলবে, কিন্তু চলতে পারতো অনন্তকাল, তাতে বাধ সাধলেন মমতা ব্যানার্জী নিজেই এইরকম একজন ক্ষুদ্রবুদ্ধির নেতা তৈরি করে নিজেই নিজের বৃক্ষের ডালটা কেটে দিলেন। অথচ গান্ধীজি এমন একটি আন্দোলন রেখে গেলেন, যেখানে তিনি ভারতের আপামর জনগণকে জয়যুক্ত করেও নিজে ক্ষমতা থেকে বাইরে রইলেন, যদিও তাতে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁকে নিয়ে চর্চা অনন্তকাল ধরে চলবে। এখানে তার সামান্যতম একটা উল্লেখ করে এই লেখা শেষ করবো, ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধীকে বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি আমন্ত্রণ করে এনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে, ওই অনুষ্ঠানে ছাত্ররা গান্ধীজিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয়ে কয়েকটি অভিযোগ তুললে, গান্ধীজি ছাত্রদের ইউনিভার্সিটি বয়কট করতে বলেছিলেন সরকারি অফিসারদের সামনেই। অতিথি হয়ে এসে এইরকম বলিষ্ঠ প্রতিবাদী কন্ঠস্বর ছিলেন মহাত্মা গান্ধী যে দেশে, সেই দেশে বাসের মাথায় দাঁড়িয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে কেউ যদি বিষোদগার করেন এই দেশের লোক যতই নব্য ভাবনার হোক, কখনও কি এইরকম ছিঁচকেমি কেউ সহ্য করতে পারে?
মন্তব্যসমূহ