সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তৃণমূল গ্রামেগঞ্জে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে

           অভিষেক না হয় ধরে নেওয়া হলো একটা আনাড়ি, টাকার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি, ছোট থেকে অঢেল হাতে টাকা পয়সা বাড়িতে আসতে দেখে অর্থের পেছনে ছুটেছিল। ভালোমন্দ পেয়ে, আরো খাই আরো খাই করেছে। কিন্তু যে মমতা ব্যানার্জী দিনের পর দিন বাম জমানার খুন জখমের বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়েছিলেন একদা। লড়াকু নেত্রী হিসেবে উঠে এসে তিনি কীভাবে মানুষকে দিনের পর দিন নিপীড়ন করতে দেখেও সব ছেড়ে দিলেন গা ভাসালেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পুলিশ অফিসার, কোনও এমন কেউ একজন ছিলেন না, যিনি একটি বারও সতর্ক করলেন না তাঁকে। এত কাগজে লেখালিখি হলো, এত মিডিয়া কভারেজ হলো, কিছুই তিনি দেখলেন না। লকাপে পিটিয়ে মারা হলো, গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে গেল একের পর একটা পরিবার। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্ট এত করে বললেন বিচারপতিরা। সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী ভ্যানিশ করে দিলেন। এত রিগিং হলো। ভোট দিতে পারলো না শত শত লোক। খুনের পর খুন হয়ে গেল। বাড়ির পর বাড়ি জ্বললো। সব উনি দেখেও দেখলেন না। একটা ঘটনা নয়। 
           প্রতিটি জেলায় শত শত ঘটনাকে এইভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী দেখেও দেখলেন না কেন। খেলা, মেলা জগন্নাথ মন্দির নিয়ে পড়ে রইলেন তিনি। তৃণমূলের আমলে এই যে এত এত ঘটনা ঘটেছে, যে কারণে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হচ্ছে। কই কোথাও তো একটা লোক বলছেন না এইসব হয়নি। সমস্ত ঘটনা একেবারেই সাজানো বলছে না তো কেউ। কিরকম মুখ্যমন্ত্রী আপনি ছিলেন গো। যেসব ঘটনাবলীর জন্য আপনি নিজেই মুখ্যমন্ত্রী হতে পারলেন একটা সময়, সেই সব ঘটনা আপনার জমানায় একটা দুটো নয় শত শত ঘটে গেল, আর তার কলকাঠি নাড়া হলো, তাঁর ভাইপোর মাধ্যমে। ২০২৬-এ জেতার পর, বিজেপির কর্মীরা দুটো দিন তৃণমূলের অফিস ঘর দখল করেছিল বলে, একটু আধটু ঘরদোর ভেঙেও ছিল বলে, মজার বিষয় হলো হাওড়ার দু একজন ফেসবুকিয়া আমার প্রোফাইলে এসে, গেল গেল রব তুলেছিল। তাদের নাম আমি ডায়েরিতে লিখে রেখেছি। বিজেপির কেডার হোক বা তাদের নাম করেই হোক, একটু আধটু ভাঙতে গিয়েও দুদিন পরে আর কিছু ভাঙতে পারেনি, গণ্ডগোল বেশি কিছু করতে পারেনি, শমীক ভট্টাচার্যের কড়া মনোভাবের কারণে। কিন্তু কত মায়ের কোল খালি করেছিল যে তৃণমূলের লোকজন, কত বাড়িঘর ভেঙে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া ছিল তৃণমূলের লোকজনের দ্বারা। এক একটা পরিবার বিজেপি করেছিল বলে, তাদের ঘরবাড়ি লুটপাট থেকে জ্বালিয়ে দেওয়া থেকে এত রকম অত্যাচার করেছিল যে তাঁরা ধনে প্রাণে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। শত শত পরিবার ১৫ বছর পরে বাড়ি ফিরেছে। সম্পত্তি দখল শুধু নয়। তারা ভিখিরির মতো ঘুরেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সহয়তায় ক্যাম্পে থেকেছে বছরের পর বছর।                 এখানকার প্রাথমিক শিক্ষক, এখানকার কবি-সাহিত্য কর্মীরা মাত্র দুটো দিন ঘুমোতে পারেনি। ৪/৫/২৬-এর পর। অথচ বিজেপির শত শত কর্মীদের কেউ খোঁজ রাখেননি তাঁরা। আনন্দবাজারের প্রথম পৃষ্ঠায় হাইকোর্টের বিচারপতির মন্তব্যটাও পড়ে দেখেনি কত যে জন, তা গুণে শেষ করা যাবে না।  শত শত ঘটনার পর উজবুক বাঙালিদের একাংশ তৃণমূলকে শুধু ভোট দেয়নি এমন নয়। কখনও তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোথাও সমালোচনা করেনি। অথচ বিজেপির কর্মীরা মাত্র দুটো দিন একটু টিনের চালের দুটো টিন খুলে দিয়েছিল একটা দুটো অফিসের দখল নিয়েছিল বলে চারিদিকে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠে গিয়েছিল। একি হচ্ছে, একি হচ্ছে ভাই ? কতজন যে এই ফেসবুকে বলেছিল তার ঠিক নেই। জমিজমা থাকলেও বাম আমলে ধান কেটে নিত, ফসল জ্বালিয়ে দিত, পুকুরে ফলিডল দিত, ঘরে ঘরে থান ফেলে আসতো নির্বাচনের আগের রাতে। ছেলে কংগ্রেসের এজেন্ট বসলে কিংবা হাল আমলে বিজেপির এজেন্ট হলে, তৃণমূল আমলে বাম আমলে বাবাকে গাঁজা কেস দিয়ে পুলিশ টর্চার করতো নির্বাচনের দিনও, ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বুথের এজেন্টের জায়গা ছেড়ে এসে বাড়িতে বসে থাকতো সারাদিন। বাড়ির টিনের চালে সারারাত তৃণমূলের ইঁট মারার জন্য সেক্টর অফিসার হিসেবে নির্বাচনের আগের রাতে ঘুমোতে পারিনি। তিন তিন বার সেইসব বাড়িতে গেছি, একটা টর্চ সম্বল করে, ঘুটে ঘুটে অন্ধকারে, বাঁশবন সুঁড়িপথে লোক খুঁজতে। তৃণমূল যা অত্যাচার করেছে, বামেরা হলে এতক্ষণে বই লিখে বার করে দিত। বিজেপির সংগঠন সেই স্তরের নয়। তাই তারা সেইসব লিপিবদ্ধ করতে পারেনি। 
           হয়তো ভবিষ্যতে এই নিয়ে কেউ পিএইচডি করবেন। এই ১৫ বছরে অত্যাচারের পরিমাণ প্রায় পাহাড় প্রমাণ। গুণে শেষ করা যাবে না। বিজেপি সরকারের উচিত ট্রাইব্যুনাল তৈরি করে এইসব নিয়ে জনমানসে একটা আন্দোলন গড়ে তোলা। বামেরা কিন্তু তাদের সঙ্গে হওয়া গণ্ডগোল লিপিবদ্ধ করেছে। বিজেপিরও করা উচিত।
( ©® লেখকঃ অলোককুমার কুন্ডু, প্রাক্তন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যাঃ অলোককুমার কুণ্ডু

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না য...

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে আর কিছু হওয়ার নেইঃ অলোককুমার কুণ্ডু

মমতা ব্যানার্জীর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার ওপর তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে এখনও তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে, তিনি হারতে পারেন না। অথচ আমার যারা লেখা পড়েন তাঁরা জানেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যখন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেদিন মঞ্চ থেকে বললেন তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন দখল করবে। সঙ্গে সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকে লিখলাম, তৃণমূল ৮০ টার বেশি পাবে না। এই ৮০ টা হিসেব করেছিলাম ৮৫টি মুসলমান সিটের দিকে তাকিয়ে। তার মধ্যে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ফস্কে বেরিয়ে গেলেন। আমার ধারণার বাইরে হলেও এইসব এরিয়ায় বেশ কিছু মুসলমান ভোট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ফলে সমস্ত এলাকার মতোই, এইসব এলাকার ভোটারদের দুভাবে প্রভাবিত করার ব্যাপক একটা চেষ্টা করা হয়েছিল, তৃণমূলের পক্ষে। ব্রেইনওয়াশ ও হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায় এবং মানুষকে, মমতা ব্যানার্জীর বোকা বানানোর দীর্ঘ কৌশল জানা রয়েছে। তিনি এই কৌশলটি অবলম্বন করে একের পর এক "ভাতা" সৃষ্টি করে গেছেন। এই খুচরো খুচরো ভাতা দিয়ে...