অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না যেহেতু তাই ওটা আগে লিঙ্ক করুন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পূরণের সময় অ্যাকাউন্টের নিচে পরিষ্কার করে লাল কালিতে লিখে দিন যে আগে আপনার বন্ধুর ব্যাঙ্কে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল ( পুরাতন অ্যাকাউন্ট নম্বর এই লেখাটির সঙ্গে দিয়ে দিন) বর্তমান অ্যাকাউন্টটি ফ্রেশ করেছেন।
যে চাকরিতে আপনাকে পিএফ দেয় না/ গ্র্যাচ্যুইটি/ পেনশন যে কোনও দুটি দেয় না, সেটি চাকরি হিসেবে গণ্য করা হয় না, অতএব এইরকম চাকরি করে থাকলে তিনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য বিবেচিত হবেন।
আপনার ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট বা এলআইসি থাকলেও আপনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য যোগ্য।
আপনি ইনকাম ট্যাক্স যদি পে করেন তবে আপনার মাসে ১২ লক্ষ টাকা আয় হয়, তাহলে কি আপনার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে আবেদন করা মানায়, কিন্তু এইসব মহিলারাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিচ্ছিলেন। মহিলাদের বরেদের রোজগার থাকলেও মহিলাদের হাত খরচ দেওয়া এই জন্য হচ্ছে নারীদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া বিজেপি সরকারের একটা সামাজিক কাজ।
ধড়ফড় করে শরীর খারাপ করে ফর্ম ভরার কারণ নেই। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন তাঁরা প্রায় সকলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন। কিন্তু বাজারে রটনা
১৩ পৃষ্ঠার ফর্ম দিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেওয়া হলো। অন্য যে সকল তথ্য চাওয়া হচ্ছে সেইসব তথ্য
দিলে আপনার জমি ব্যাঙ্কের টাকা বেহাতের থেকে বরং যদি বেহাত হয় তখন আপনার দেওয়া তথ্য দ্বারা প্রমাণিত হবে সেই সব তথ্য যাদের নামে বলে জমা দিয়েছিলেন সেই কারণে আপনি ভবিষ্যতের কোনো বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে পারেন কারণ আপনি আপনার সত্যিকারের সমস্ত তথ্য আপনি আগেই সরকারের কাছে জমা করেছিলেন। বিশেষ করে আপনার ভোটার স্লিপটি থেকে আপনি অনেক তথ্য সঠিক করে নিয়েছেন। আপনাকে মনে রাখতে হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য হবে।
আসলে তৃণমূল আমলেই যাতা করে ফর্মটি তৈরি করা হয়েছিল। জানবেন ৯০ দিন সময় রয়েছে। পুরাতনরা সকলেই ১/৬/২৬ থেকে ৩০০০/- পাবেন, দেরি করে জমা দিলেও ১/৬/২৬ থেকে টাকা পাবেন। নতুনদের শুধু দেরি হবে এবং ফর্ম অনুমোদন হলে তবে পাবেন।
এক সপ্তাহ পরে সকলে ফর্ম পূরণ করুন যাদের মনে হবে সব তথ্য হাতে নেই। যারা পারবেন অনলাইনে জমা করুন। তথ্য অনলাইনে জমা করলেও হার্ড কপি তাকে জমা করতেই হবে। যে কলম পূরণ করতে পারবেন না সেই কারণটি লিখে দেবেন। ডিভোর্সের মামলা বা সেপারেশনের কারণে তথ্য জমা না করতে পারলে সেটি স্পষ্ট লিখে দিন ফর্মের সংশ্লিষ্ট স্থানে।
এই ফর্মটি পূরণ করে জমা করার আগে স্বাক্ষর করে জেরক্স করে নিজের কাছে অবশ্যই একটি কপি রেখে দিন। যে সকল মহিলাদের বয়সের শংসাপত্র নেই তাদের প্যান ও আধার ও ভোটার কার্ডের বয়স এই ফর্ম জমা করার আগে তিনটি কার্ডের বয়স একরকম করার ব্যবস্থা করুক নয়তো ব্যাঙ্কে যে বয়সটি দিয়েছেন সেটাই এই ফর্মে দিন। পাঁচজনের কথা শুনবেন না ধরে নেওয়া যেতে পারে একেবারে জোচ্চর ও চিটিংবাজ ছাড়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের গ্রাহকরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত হবেন না। ধৈর্য ধরুন বিজেপি সরকারের উপর বিশ্বাস রাখুন। গাড়ি-বাড়ির তথ্য যা আছে, যতটুকু জানেন সবটাই সত্যি লিখবেন, এর সঙ্গে আপনাকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া হবে না এই কথা কোথাও লেখা নেই। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া হবে
নারী শক্তি জাগরণের জন্য, এই টাকা দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্যও একটা বড় প্রচেষ্টা। সময় নিয়ে দু চার দিন দেরি করে হলেও বিশুদ্ধ তথ্য দিন। তথ্য ভুল হলে কিন্তু আপনি নিজেই নিজেকে বিপদে ফেলবেন ভবিষ্যতের জন্য। আপনার পুত্র-কন্যার তথ্যের তারতম্য হয়ে যাবে ভবিষ্যতে। ©® অলোক কুমার কুন্ডু
মন্তব্যসমূহ