সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ক্যামেরার কারসাজি ফুস্ঃ লেখকঃ অলোককুমার কুণ্ডু ( প্রাক্তন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক)

অনেকেই জানেন না যে, ক্যামেরা যারা বসিয়েছিল তাদের পেছন থেকে কেউ কেউ ক্যামেরাকে দেওয়ালে ছোট ছোট স্ক্রু দিয়ে আটকাতে বলেছিল। যাতে সহজে খুলে যায় এবং মুখ ঘুরে যায় ( বিডিও অফিসের যিনি টেন্ডার দিয়েছিলেন তিনি কলকাঠি নেড়ে থাকেন) যার ফলে ২০২১/ ২০২৪-এ ভোট শুরুর সময় কোথাও কোথাও ক্যামেরার মুখ ঝুলে পড়ে ছিল কোথাও কোথাও ক্যামেরার মুখ ঘুরে গিয়েছিল কিন্তু এইবারে যারা নির্বাচন কমিশনের হয়ে মণিটরে চোখ রাখছিলেন, তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে ফোন করেন এবং তারপর সেক্টর অফিসারকে ধরে ক্যামেরা ঠিক করে বসানো হয়। এর আগে ক্যামেরার মুখে গামছা দেওয়া হতো তৃণমূলের ডায়মন্ডহারবার মডেলের ( আইপ্যাকের) উদ্যোগে সেইসব নির্বাচন কমিশন ধরে ফেলেছে। আসলে ২০২১-এই প্রক্রিয়া খতম হয়ে গিয়েছিল তা তৃণমূল আগেই বুঝে গিয়েছিল। কিন্তু বেশ কিছু হিন্দু বাঙালিদের এত তৃণমূল ভক্তি যে, তারা প্রতি কথায় প্রতি আলোচনা, খালি বলতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে। আরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যদি দিয়েছে তো, গণনায় পর্যন্ত রিগিং করতে হয় কেন? ডায়মন্ডহারবার মডেলকে কাজে লাগাতে হয় কেন। বিজেপির কর্মীদের হাত-পা ভাঙা না হয় ছেড়েই দিলাম। ভয় দেখিয়ে গ্রামের পর গ্রাম হিন্দু ভোট নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস হচ্ছে ডায়মন্ডহারবার মডেল, হিন্দুদের ভয়ে ভয়ে থাকার নিদান দিয়ে, এলাকায় একজন সংখ্যালঘু মস্তানকে এলাকার রাজা বানিয়ে যাইহোক তাইহোক নির্বাচন করে তৃণমূলকে জেতাও ও অন্যদের হারাও এই খেলায় তৃণমূল গত ২০১১-এর পর থেকেই মেতেছিল। যেভাবে ২০২৬-এ নির্বাচনের প্রচার হলো, বিরোধী দলকে যেভাবে নির্বিচারে বাধা দেওয়া হলো তা ভূ-ভারতে কেউ আগে দেখেনি। তৃণমূলের অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার অধিকারটুকু এইবারেও কেড়ে নিতে চেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক প্ল্যানের কাছে তৃণমূলের আইপ্যাক পরাস্ত হলো। এখন চেষ্টা হচ্ছে যাইহোক তাইহোক করে গণনার বানচাল করিয়ে দেওয়া এবং আবার নির্বাচন করা এবং দ্বিতীয়বার ভোট হলে, কম ভোট পড়া। ইতিমধ্যে পরিযায়ীরা রাজ্য ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। গত ২০২১-এ যা করেছিল সেই প্ল্যান করতে এখন সচেষ্ট রয়েছে তৃণমূল। জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
--------------------------------------
আমার ফেসবুক ওয়ালে এই লেখা আমি লিখেছিলাম গত ০১/৫/২০২৬-এ। লেখকঃ
অলোককুমার কুণ্ডু ( প্রাক্তন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক)।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যাঃ অলোককুমার কুণ্ডু

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না য...

তৃণমূল গ্রামেগঞ্জে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে

           অভিষেক না হয় ধরে নেওয়া হলো একটা আনাড়ি, টাকার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি, ছোট থেকে অঢেল হাতে টাকা পয়সা বাড়িতে আসতে দেখে অর্থের পেছনে ছুটেছিল। ভালোমন্দ পেয়ে, আরো খাই আরো খাই করেছে। কিন্তু যে মমতা ব্যানার্জী দিনের পর দিন বাম জমানার খুন জখমের বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়েছিলেন একদা। লড়াকু নেত্রী হিসেবে উঠে এসে তিনি কীভাবে মানুষকে দিনের পর দিন নিপীড়ন করতে দেখেও সব ছেড়ে দিলেন গা ভাসালেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পুলিশ অফিসার, কোনও এমন কেউ একজন ছিলেন না, যিনি একটি বারও সতর্ক করলেন না তাঁকে। এত কাগজে লেখালিখি হলো, এত মিডিয়া কভারেজ হলো, কিছুই তিনি দেখলেন না। লকাপে পিটিয়ে মারা হলো, গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে গেল একের পর একটা পরিবার। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্ট এত করে বললেন বিচারপতিরা। সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী ভ্যানিশ করে দিলেন। এত রিগিং হলো। ভোট দিতে পারলো না শত শত লোক। খুনের পর খুন হয়ে গেল। বাড়ির পর বাড়ি জ্বললো। সব উনি দেখেও দেখলেন না। একটা ঘটনা নয়।             প্রতিটি জেলায় শত শত ঘটনাকে এইভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী দেখেও দেখলেন না ...

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে আর কিছু হওয়ার নেইঃ অলোককুমার কুণ্ডু

মমতা ব্যানার্জীর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার ওপর তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে এখনও তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে, তিনি হারতে পারেন না। অথচ আমার যারা লেখা পড়েন তাঁরা জানেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যখন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেদিন মঞ্চ থেকে বললেন তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন দখল করবে। সঙ্গে সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকে লিখলাম, তৃণমূল ৮০ টার বেশি পাবে না। এই ৮০ টা হিসেব করেছিলাম ৮৫টি মুসলমান সিটের দিকে তাকিয়ে। তার মধ্যে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ফস্কে বেরিয়ে গেলেন। আমার ধারণার বাইরে হলেও এইসব এরিয়ায় বেশ কিছু মুসলমান ভোট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ফলে সমস্ত এলাকার মতোই, এইসব এলাকার ভোটারদের দুভাবে প্রভাবিত করার ব্যাপক একটা চেষ্টা করা হয়েছিল, তৃণমূলের পক্ষে। ব্রেইনওয়াশ ও হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায় এবং মানুষকে, মমতা ব্যানার্জীর বোকা বানানোর দীর্ঘ কৌশল জানা রয়েছে। তিনি এই কৌশলটি অবলম্বন করে একের পর এক "ভাতা" সৃষ্টি করে গেছেন। এই খুচরো খুচরো ভাতা দিয়ে...