নির্বাচনের বহু আগে থেকেই এমনকি ২০২০ থেকেই লিখেছিলাম, তৃণমূল দলটা আসলে একটা ছোটলোকের দল। মাপ করবেন, আমার শ্বশুর বাড়ির অনেকেই তৃণমূল করতো এখন হয়তো আর করবে না, কিন্তু করে তো ছিল, অর্থাৎ বলতে চেয়েছিলাম যারা প্রত্যক্ষভাবে পুরোপুরি দলটা করতো, সাপোর্টার নয় তারা কেউ ভদ্রলোক ছিল না। তাই বলে কি আমার শ্বশুর বাড়ির কাউকে বলতে পারবো, তারা সব ছোটলোক। এরকম বলার আমার উদ্দেশ্য নয়। যারা মিছিলে যায়, পোস্টার মারে, দেওয়াল লেখে এবং কোনও না কোনও সুবিধা নেয়, তারা ওই ছোটলোকের মধ্যে পড়ে। কি করবো তাতে একশো জনের মধ্যে ২/১০ জন ভালো তো থাকতেই পারেন।
আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওই ভালোর দলে।
তৃণমূলের কেউ ভদ্রলোক থাকলে ছিলেন অবশ্যই। কিন্তু আমার বলার উদ্দেশ্য যারা ছিলেন, তাদের অধিকাংশই আজ মারধর খাচ্ছেন।
মারধরের বাইরেও যারা ছিলেন, বিজেপি জেতার পর আমার পোস্টে এসে নিজেদের তালেবর সমাজসেবী সেজে আমার পোস্টে একটু আধটু লিখে মনে করছিলেন বুঝি আমি তাদের ধরতে পারিনি। এইসব ফোড়ের দল মোটেও বুঝতে পারেনি তৃণমূল হেরে যেতে পারে। এরা কেউ কেউ আমাকে বাধা দিলেও চাঁচাছোলা ভাষায় দিনের পর দিন লিখেছি। আমি কি করবো ? সেইসব লেখা তো আর ফিরিয়ে নিতে পারবো না। ফেসবুকে পড়ে রয়েছে। এই নির্বাচনের আগেও প্রচুর লিখেছি, ২০২১-এও লিখেছি। এটা তো মিথ্যা নয়। গত ছমাস তবু ভদ্রতা বজায় রেখে লেখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমি বারংবার বলেছি রাজনীতি যারা সৎভাবে করে না, তারা ছোটলোক। আর যারা তৃণমূলের সাকরেদ তারা ভদ্রলোক মোটেও না। দিব্যগোপাল ঘটক বলে বিকাশ ভবনের এক ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন। তৃণমূল বিদ্যালয় পরিদর্শক সমিতির সভাপতি হয়ে সরাকে ধরা মনে করতে শুরু করলেন হঠাৎ, আর আমার পেছনে পড়ে গেলেন। বর্ধমানের এক বিদ্যালয় পরিদর্শক (লেডিস) আমার বিরুদ্ধে লেগে গেলেন এবং দিব্যগোপাল ঘটককে দিয়ে আমার পেছনে পুরো দমে লেগে পড়লেন, ২০১২-তে। যতরকম কাজ রয়েছে, বিকাশ ভবন থেকে বসে, রায়নায় আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে থাকলেন। কত শিক্ষিত ছোটলোক দেখলাম তৃণমূলে ভিড়ে যেতে তখন। এর মধ্যে রয়েছে একদল বিদ্যালয় পরিদর্শক পর্যন্ত। রাজনীতিতে ঢুকেই ছোটলোক বনে যেতে বহুজনকে দেখেছি। অথচ বর্ধমান জেলায়, বামপন্থী বিরোধী বিদ্যালয় পরিদর্শক সমিতির আমি জন্মদাতা। কিন্তু যেই তারা তৃণমূলের সাপোর্ট পেয়ে গেল, আমাকে পিসে মেরে ফেলতে শুরু করলো। আমার বদলি আটকাতে নেমে পড়লো তৃণমূল বিদ্যালয় পরিদর্শক সমিতি। তার আগে ২০১০-এ আমাকে দূরে বদলি করে পাঠালো বামপন্থী বিদ্যালয় পরিদর্শক সমিতির লোকজন। তারাই রাতারাতি সব তৃণমূল হয়ে গেল। দিব্যগোপাল ঘটককে দুধকলা দিয়ে পুষে আমার শেষে কাল হয়েছিল। এইসব লিখতে গেলে ভোলা যায় না। বজ্জাতদের বজ্জাতি কি কখনও ভোলা যায়। আসলে রাজনীতি যারা কখনও করেনি, তারা রাজনীতি করতে শুরু করলে তা সাংঘাতিক আকার নেয়। হয়তো তেমন কেউ এইসব যন্ত্রকে চেনেন না, তবে আমি ভালো করে চিনেছিলাম। হয়তো দেখা যাবে এইরকম ধান্দাবাজ কেউ বিজেপির মধ্যেও এখন কেউ ঢুকে গেলেন। অথবা ক্ষমতা পেয়ে কেউ ধান্দাবাজ হয়ে গেলেন। সব মানুষ পাল্টায় না। কিন্তু কেউ কেউ আবার পাল্টে যেতেও পারেন। ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিজেপিতে বহুজন রয়েছেন। বহু শিক্ষিত মানুষ রয়েছেন। কিন্তু ওই যে বলছি কেউ কেউ পাল্টে যেতেও পারেন। কে পাল্টে যাবেন না এর কোনও স্থিরতা নেই। গ্যারান্টি নেই। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্যরা একরকম ছিলেন আছেন থাকবেন। যে যাই বলুন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অনেককে পিছনে ফেলে দিতে পারেন। বিজেপির মধ্যেকার লোকজন পাল্টে যেতে পারে ক্ষমতা পেয়ে। শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য এবং আরো কয়েকজন তখন হয়তো এদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবেন না। পয়সা দেখলে জিভে জল আসে বহু মানুষের। আমি দেখেছি আচ্ছা আচ্ছা বামপন্থীরা পয়সা না খাক, অঢেল সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু আবার বামপন্থী এমন এমন মনোভাবের লোকজন আমার অফিসে যারা ছিলেন, যেমন আমার কলকাতা অফিসের প্রাক্তন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ( আমাদের সময় সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক ছিলেন ) তিনি অবলীলায় টাকার পাহাড়ে বসে একটা পয়সাও নেননি, উপার্জন করেননি। তিনি প্রণবকুমার সরকার। আজও প্রণব দার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ। দেড় বছর আগে প্রণবদার ৫০ বছরের বিবাহ বার্ষিকীতে গিয়েছিলাম। এইসব মানুষ একসময়ে একসঙ্গে ৫ খানা সার্কেলের এসআইঅফ স্কুলস্ ছিলেন চাকরি জীবনের শুরুতে। শুনতে পাই, এক একজন এসআইঅফ স্কুলস্ আজকাল চাকরি পেয়েই কামাতে শুরু করেছে। আমার স্কুলের বন্ধু সুদীপ মুখার্জী সিপিআইএম করতো, এই নির্বাচনের দিনে একসঙ্গে চা খেলাম, কত গল্প হলো। চিরকাল সিপিআইএম করেছে ওর বাবা, ভাইরা পর্যন্ত। একটা কানাকড়িও নেয়নি দল থেকে। হঠাৎ কদিন আগে মারা গেল। উল্লেখ্য যে, এই নির্বাচনের আগে ও পরে বলেছি তৃণমূল দলটা কোনও একটা দল নয়। এই দলটা উঠে যাবে। এক একজন ৪০/৫০ বছর ধরে ছাত্র পরিষদ করেছে, যুব কংগ্রেস করেছে, তৃণমূল রাজ্য পেতে ২০১১-তে, সকলে দলে দলে তৃণমূলে চলে এলো, ২০১১-এর আগেও গিয়েছিল কেউ কেউ কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে। বহুজন এমএলএ, এমপি হয়েছিল। অনেকেই চাকরি বাকরি দু দশটা পেয়েছিল, বিতরণ করেছে, পয়সাও পাঠিয়েছিল তৃণমূলের হেড অফিসে।
কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একটা বাচ্চা ছেলে হঠাৎ করে ২০১৬ সালে সারা কলকাতায় নিজের ছবি ছাপিয়ে তার ওপর লিখে দিল "ম্যান অফ দি ম্যাচ।" নির্বাচনটা পরিচালনা করলো মুকুল রায়। মাঝখান থেকে কিছু হয়তো এইসব জাহাঙ্গীর-টাহাঙ্গীর জোগাড় করে, কয়েকটি জায়গায় বেশি বেশি ভোট পাইয়ে, কয়েকজন প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে পেরেছিল। সেই কারণে অভিষেক হয়ে গেল "ম্যান অফ দি ম্যাচ।" ২০১৮-তে যুবকংগ্রেস থেকে প্রথমে শুভেন্দু অধিকারী হয়ে গেলেন বাদ। তার পর বাঁকুড়ার সৌমিত্র খাঁ বাদ। সৌমিত্র খাঁ চলে গেলেন বিজেপিতে। ২০২০-তে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে। তাঁর সঙ্গে শুরু হলো চুরির সঙ্গে হাতেখড়ি অভিষেকের। প্রথমে চাকরি, তারপর কয়লা, গরু পাথর সবেতে নাম জড়ালো ব্যানার্জী পরিবারের। তার আগে ত্রিফলা ও নীলসাদা রঙ। রাতারাতি রঙের দোকান এবং ভবানীপুরের গাদা গাদা প্লট অধিকার করলো ব্যানার্জী পরিবার। পুলিশ প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এলো। আইপ্যাক এবং কতরকম মুখপাত্র হলো। কত কি যে একটা রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে গেল। দুয়ারে সরকার হলো। সিনেমা আর্টিস্টদের এনে মঞ্চ বেঁধে দল না জলশা কারও বোঝার উপায় নেই। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বিরুদ্ধে গাদাগাদা মামলা করলো আপামর জন সাধারণ। সরকার কি করলো, সেইসব মামলা মোকদ্দমাকে দেরি করাতে, টাকার শ্রাদ্ধ করে গেল। যেন তৃণমূলের বাপের টাকা। বাম আমলে সরকার কোর্টকে ভয় পেতো। ওরে বাবা এই চোরের দল প্রথম থেকেই চুরি চাপা দিতে, দিনের পর দিন হাইকোর্টে ও সুপ্রিম কোর্টের কাছে গিয়ে কেস উঠতে দিল না, কেসকে ঘোরানো শুরু করলো, আইনের ফাঁক ফোকরে কেসের দীর্ঘসূত্রতা বার করতে শুরু করলো। নাগরিক জব্দের সরকার ছিল তৃণমূলের সরকার। দলের মধ্যেকার লোকজন দেখলো তারা মস্তানি করে, মারধর করে, গ্রামগঞ্জের লোকজনকে গ্রাম ছাড়া করতে যখন সহজে করতে পারছে, তখন তাহলে চুরি করতে দোষ কোথায়? ছোটবড় চোর যেমন জন্মালো, তৈরি হলো মস্তান বাহিনী। গ্রামে-গঞ্জে তৈরি হলো এক ধরনের প্রাইমারি শিক্ষক, তাদের কেউ কেউ আবার কবি-সাহিত্যিক পর্যন্ত। ফেসবুকে কুটুস কুটুস করতে ছাড়তো না এই ধেড়ে ইঁদুরগুলো। আমার পোস্টে এইরকম তৃণমূলের কিছু দালাল শিক্ষক ও গ্রামীণ কবিও এসে মাথা ঘামানো শুরু করেছিল। এরাও চোরেদের নানাভাবে সাপোর্ট করতে শুরু করলো। আমি নির্বাচনের পর পরেই লিখেছি এই দলটা আর থাকবে না। ১৯৭৭-এ কংগ্রেসের এত খারাপ পজিশন হয়নি। কংগ্রেসের প্রচুর তখন নেতা ও কর্মী তবু কংগ্রেসিরা সব দম বন্ধ করে তিনমাস বসে পড়েছিল। ৩৪ বছর ধরে কংগ্রেস লড়াই করেছে শুধু, কিছু লাভ ওঠাতে পারেনি। এই তৃণমূল দলটাই তো চোরের দল। হাওড়ার জিটি রোডের বড় বড় দোকানকে মাসে এক লক্ষ টাকা করে দিতে হতো। তার ওপর ৫/১০ হাজার এপাশ ওপাশে তো দিতেও হতো।
টোটোঅলা থেকে কেবলওলা, পথে বসা বাজার ওলা থেকে ফুটপাতের হকার কেউ বাদ ছিল না। রিক্সাওলারা পর্যন্ত জানে এতদিন একটা চোর সরকার ছিল। স্কুলের পোশাক থেকে টিচিং এড, বই কোথা থেকে যে তৃণমূল নেয়নি বোঝা মুশকিল। ফ্ল্যাট, জমি জমা পঞ্চায়েতের নানা ফান্ড থেকে চুরিতে যেন ফোয়ারা ছুটেছিল। লোকজন এইসব আপাদমস্তক চুরি দেখেছে বলেই না সরিয়েছে।
নির্বাচনের আগে বাপের জন্মেও কেউ দেখেনি যে, বিরোধীদের ঝাঁটা-লাঠি নিয়ে গ্রামের মেয়েরা ঘিরে ফেলে নেত্ত করছে, জয় বাংলা বলছে। প্রার্থীকে তার নির্বাচনী এলাকায় তৃণমূল কিছুতেই প্রচার করতে দেবে না। এইরকম অদ্ভুত সব কাণ্ড কারখানা দেখেছে ভোটের আগে। যত রকমের সামাজিক অবক্ষয় ছিল তৃণমূলের আমলে জড় হয়েছিল। এইবার এইসবের ফলস্বরূপ একটা নির্বাচন এলেই তৃণমূল দলটা একেবারেই ধুলিসাৎ হয়ে যাবে। রাজনীতিতে একটা সরকারি দল টাকা পয়সা নেবে না এটা হতে পারে না কিন্তু আজ পর্যন্ত ভারতবর্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের মতো কোনও এমন দল আসেনি যারা রীতিমতো দিনেদুপুরে ডাকাতি করে গেছে। তাই এই সরকারের রাজনৈতিক দলটি যত তাড়াতাড়ি এই রাজ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলে ততই মানুষের মঙ্গল হবে। চাকরি কংগ্রেস দিয়েছে, তৃণমূল বামেরা দিয়েছে কিন্তু এইরকম দিস্তা দিস্তা চাকরি বিক্রি কেউ করেনি। সাদা খাতা জমা কেউ দেয়নি। কর্মচারী ও শিক্ষকদের শিক্ষা দীক্ষা ছিল কংগ্রেস ও বাম আমলে। বিগত সরকারের আমলে পিএসসি চাকরি পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। https://www.youtube.com/channel/UC9WHk2OdVQ7eGOZlhVCchNw
মন্তব্যসমূহ