সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা / অলোক কুমার কুণ্ডু (লেখকঃ প্রাক্তন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক)

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু (লেখকঃ প্রাক্তন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক)

• অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল পরিবারের মহিলাদের কথা বলা থাকলেও ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কিন্তু অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল পরিবারের মহিলাদেরও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছিল। তাই বিজেপি সরকার কিন্তু তাদের পূর্ব ঘোষণা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না।

• এই টাকা কিন্তু ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে      (ডিবিটি) ঢুকবে। ফর্ম ভরার সময় হাতের কাছে লাগবে উপভোক্তার (১).আধার কার্ড (২). রেশন কার্ড (৩). ভোটার আইডি কার্ড (৪). ব্যাঙ্ক পাশ বই ও একটা ক্যানসেল চেক (৫). উপভোক্তার নিজের আধার লিঙ্ক মোবাইল নম্বর (৬).একটা নিজের আয়ের বিবরণ (৭). পাসপোর্ট সাইজ রঙিন (ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা) ফটোগ্রাফ (৮). বাড়ির ঠিকানার প্রমাণ (৯). জাতিগত শংসাপত্র (১০). লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়ার ডকুমেন্ট। (১১). পারিবারিক আয়ের একটা স্ট্যাটাস (১২). ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস (১৩). বাড়ির বিবরণ ও স্ট্যাটাস যেরকম ফর্মে রয়েছে। মনে রাখতে হবে নাম ও জন্মতারিখের জটিলতার জন্য কিন্তু এসআইআরে অনেকে ভোটারের নাম এখনও ওঠেনি। তাই এই দুটি বিষয়ে খুব সতর্ক হয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে। অনলাইনে ভেরিফিকেশন আসবে এবং ওটিপি দিলে তবেই অনুমোদিত হবে আবেদন পত্র।                                                     • মনে রাখতে হবে আধার কার্ডের সঙ্গে বানান যেন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে হুবহু এক থাকে তা না হলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। যে সকল তথ্য দেওয়া হবে তাতে যেন একটার সঙ্গে অন্যটির মিল থাকে। মনে রাখতে হবে রেশন কার্ড থেকে পারিবারিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝা যাবে, তাই কিছু লুকিয়ে লিখলে তা ধরা পড়বে। রেশন কার্ড থেকে পরিবারের কর্তা কে তা কিন্তু নির্দিষ্ট করা রয়েছে। পরিবারের কর্তা বদল করতে হলে রেশন কার্ড সংশোধন করা দরকার বা রেশন কার্ড অনুসারে তথ্য দিতে হবে। রেশন কার্ড আপডেট না থাকলে তাকে আপডেট করে নেওয়া দরকার।      •  যদি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট কেউ পাল্টাতে চান তবে তাকে পুরাতন (লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট) অ্যাকাউন্ট-টি ফর্মের নিচে লিখে জানাতে হবে যে, ওই অ্যাকাউন্ট-টি পরিত্যক্ত করা হয়েছে অন্নপূর্ণার জন্য। অতএব আগের ডকুমেন্ট সঙ্গে দিয়ে ক্যানসেল লিখে দেবেন পাশবইয়ের জেরক্স দিয়ে। তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি ( ডিবিটি লিঙ্ক করে) ব্যবহার করলে ঝামেলা অনেক কম হবে, এটা কিন্তু মাথায় রাখতে হবে। সমস্ত ফটোকপি বা জেরক্স জমা দিতে হবে। আগের অব্যবহৃত ডকুমেন্ট (জেরক্স) জমা দিতে চাইলে তাতে লিখে দেবেন ওই ডকুমেন্ট লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আইএফএসসি কোড দেবেন। নিজের আয় সম্পর্কে একটি সেল্ফ ডিক্লারেশন সার্টিফিকেট দিতে হবে।                                                          • সাধারণ ভাবে ফর্মে কি কি পেন মিসটেক হতে পারে সেটা আগে ভাবুন ( ১). আধার নম্বর লেখার ক্ষেত্রে (২) ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট ও কোড লেখার ক্ষেত্রে (৩) মোবাইল নম্বর লেখার ক্ষেত্রে (৪). আবছা জেরক্স আপলোড করার ক্ষেত্রে (৫) আবছা বা পুরাতন ছবি দেওয়ার ক্ষেত্রে (৬). রেশন কার্ডের তথ্যে ভুল দেওয়ার ক্ষেত্রে (৭). ডিবিটি না করেই লিঙ্ক হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হলে (৮). ব্যাঙ্কে কে-ওয়াসি-সি না দেওয়া হলে (৯). লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তথ্যের সঙ্গে গরমিল হলে। মনে রাখতে হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ঘোষণার সঙ্গে আগের ওই ১৫০০/-টাকা দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বদলে দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০/- টাকা। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সময় আগের আবেদন পত্রটির জেরক্স থেকে থাকে তবে। ওই সকলে তথ্যের সঙ্গে অমিল হলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন আপনার ক্ষেত্রে আটকে যেতে পারে এটা ভীষণ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে।                                    • এছাড়া অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে তিনি পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পাবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন, তাই চিন্তা নেই যা সত্যি তাই জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে বা কর্তার নামে হেড অফ ফ্যামিলি দেখিয়ে একটি রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে, তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না, যেহেতু তাই ওটা আগে লিঙ্ক করুন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পূরণের সময় অ্যাকাউন্টের নিচে পরিষ্কার করে লাল কালিতে লিখে দিন যে আগে আপনার বন্ধন ব্যাঙ্কে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল (পুরাতন অ্যাকাউন্ট নম্বরটি ফর্ম পূরণের সময় সঙ্গে দিয়ে দিন) বর্তমান অ্যাকাউন্টটি ফ্রেশ করেছেন লিখে দিন।               • যে চাকরিতে আপনাকে পিএফ দেয় না/ গ্র্যাচ্যুইটি/পেনশন যে কোনও দুটি দেয় না, সেটি চাকরি হিসেবে গণ্য করা হয় না, অতএব এইরকম চাকরি করে থাকলে তিনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য বিবেচিত হবেন। আপনার ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট বা এলআইসি থাকলেও আপনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য যোগ্য। আপনি ইনকাম ট্যাক্স যদি পে করেন তবে আপনার মাসে ১২ লক্ষ টাকা আয় হয়, তাহলে কি আপনার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে আবেদন করা মানায়, না পাওয়া উচিত ?কিন্তু এইসব মহিলারাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিচ্ছিলেন। মহিলাদের বরেদের রোজগার থাকলেও মহিলাদের হাত খরচ দেওয়া এই জন্য হচ্ছে যে, নারীদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া বিজেপি সরকারের একটা সামাজিক কাজ।                                       • ধড়ফড় করে শরীর খারাপ করে ফর্ম ভরার কারণ নেই। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন তাঁরা প্রায় সকলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন। কিন্তু বাজারে রটনা। ১৩ পৃষ্ঠার ফর্ম দিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেওয়া হলো। অন্য যে সকল তথ্য চাওয়া হচ্ছে সেইসব তথ্য দিলে আপনার জমি ব্যাঙ্কের টাকা বেহাতের থেকে বরং যদি বেহাত হয় তখন আপনার দেওয়া তথ্য দ্বারা প্রমাণিত হবে সেই সব তথ্য যাদের নামে বলে জমা দিয়েছিলেন সেই কারণে আপনি ভবিষ্যতের কোনো বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে পারেন কারণ আপনি আপনার সত্যিকারের সমস্ত তথ্য আপনি আগেই সরকারের কাছে জমা করেছিলেন। বিশেষ করে আপনার ভোটার স্লিপটি থেকে আপনি অনেক তথ্য সঠিক করে নিয়েছেন। আপনাকে মনে রাখতে হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য হবে। গাড়ি থাকলেও বিবরণ দিন।                        • আসলে তৃণমূল আমলেই যাতা করে ফর্মটি তৈরি করা হয়েছিল। জানবেন ৯০ দিন সময় রয়েছে। পুরাতনরা সকলেই ১/৬/২৬ থেকে ৩০০০/- পাবেন, দেরি করে জমা দিলেও ১/৬/২৬ থেকে টাকা পাবেন। নতুনদের শুধু দেরি হবে এবং ফর্ম অনুমোদন হলে তবে পাবেন। এক সপ্তাহ পরে সকলে ফর্ম পূরণ করুন যাদের মনে হবে সব তথ্য হাতে নেই। যারা পারবেন অনলাইনে জমা করুন। তথ্য অনলাইনে জমা করলেও হার্ড কপি তাকে জমা করতেই হবে। যে কলম পূরণ করতে পারবেন না সেই কারণটি লিখে দেবেন। ডিভোর্সের মামলা বা সেপারেশনের কারণে তথ্য জমা না করতে পারলে সেটি স্পষ্ট লিখে দিন ফর্মের সংশ্লিষ্ট স্থানে।• এই ফর্মটি পূরণ করে জমা করার আগে স্বাক্ষর করে জেরক্স করে নিজের কাছে অবশ্যই একটি কপি রেখে দিন। যে সকল মহিলাদের বয়সের শংসাপত্র নেই তাদের প্যান ও আধার ও ভোটার কার্ডের বয়স এই ফর্ম জমা করার আগে তিনটি কার্ডের বয়স একরকম করার ব্যবস্থা করুন নয়তো ব্যাঙ্কে যে বয়সটি দিয়েছেন সেটাই এই ফর্মে দিন। পাঁচজনের কথা শুনবেন না। ধরে নেওয়া যেতে পারে একেবারে জোচ্চর ও চিটিংবাজ ছাড়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের গ্রাহকরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত হবেন না। ধৈর্য ধরুন বিজেপি সরকারের উপর বিশ্বাস রাখুন। গাড়ি-বাড়ির তথ্য যা আছে, যতটুকু জানেন সবটাই সত্যি লিখবেন, এইসব জানালে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া হবে না এই কথা কোথাও লেখা নেই। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া হবে নারী শক্তি জাগরণের জন্য, এই টাকা দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্যও একটা বড় প্রচেষ্টা। সময় নিয়ে দু চার দিন দেরি করে হলেও বিশুদ্ধ তথ্য দিন। তথ্য ভুল হলে কিন্তু আপনি নিজেই নিজেকে বিপদে ফেলবেন ভবিষ্যতের জন্য। আপনার পুত্র-কন্যার তথ্যের তারতম্য হয়ে যাবে ভবিষ্যতে। ©® অলোক কুমার কুন্ডু ©®

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যাঃ অলোককুমার কুণ্ডু

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না য...

তৃণমূল গ্রামেগঞ্জে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে

           অভিষেক না হয় ধরে নেওয়া হলো একটা আনাড়ি, টাকার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি, ছোট থেকে অঢেল হাতে টাকা পয়সা বাড়িতে আসতে দেখে অর্থের পেছনে ছুটেছিল। ভালোমন্দ পেয়ে, আরো খাই আরো খাই করেছে। কিন্তু যে মমতা ব্যানার্জী দিনের পর দিন বাম জমানার খুন জখমের বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়েছিলেন একদা। লড়াকু নেত্রী হিসেবে উঠে এসে তিনি কীভাবে মানুষকে দিনের পর দিন নিপীড়ন করতে দেখেও সব ছেড়ে দিলেন গা ভাসালেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পুলিশ অফিসার, কোনও এমন কেউ একজন ছিলেন না, যিনি একটি বারও সতর্ক করলেন না তাঁকে। এত কাগজে লেখালিখি হলো, এত মিডিয়া কভারেজ হলো, কিছুই তিনি দেখলেন না। লকাপে পিটিয়ে মারা হলো, গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে গেল একের পর একটা পরিবার। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্ট এত করে বললেন বিচারপতিরা। সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী ভ্যানিশ করে দিলেন। এত রিগিং হলো। ভোট দিতে পারলো না শত শত লোক। খুনের পর খুন হয়ে গেল। বাড়ির পর বাড়ি জ্বললো। সব উনি দেখেও দেখলেন না। একটা ঘটনা নয়।             প্রতিটি জেলায় শত শত ঘটনাকে এইভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী দেখেও দেখলেন না ...

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে আর কিছু হওয়ার নেইঃ অলোককুমার কুণ্ডু

মমতা ব্যানার্জীর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার ওপর তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে এখনও তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে, তিনি হারতে পারেন না। অথচ আমার যারা লেখা পড়েন তাঁরা জানেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যখন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেদিন মঞ্চ থেকে বললেন তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন দখল করবে। সঙ্গে সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকে লিখলাম, তৃণমূল ৮০ টার বেশি পাবে না। এই ৮০ টা হিসেব করেছিলাম ৮৫টি মুসলমান সিটের দিকে তাকিয়ে। তার মধ্যে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ফস্কে বেরিয়ে গেলেন। আমার ধারণার বাইরে হলেও এইসব এরিয়ায় বেশ কিছু মুসলমান ভোট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ফলে সমস্ত এলাকার মতোই, এইসব এলাকার ভোটারদের দুভাবে প্রভাবিত করার ব্যাপক একটা চেষ্টা করা হয়েছিল, তৃণমূলের পক্ষে। ব্রেইনওয়াশ ও হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায় এবং মানুষকে, মমতা ব্যানার্জীর বোকা বানানোর দীর্ঘ কৌশল জানা রয়েছে। তিনি এই কৌশলটি অবলম্বন করে একের পর এক "ভাতা" সৃষ্টি করে গেছেন। এই খুচরো খুচরো ভাতা দিয়ে...