সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মতাদর্শগত অবস্থান যাই থাক না কেন, বিজেপির বুথ লেভেল বা মণ্ডল কেন্দ্রিক সংগঠন এখনই গড়ে তোলা দরকার। লেখকঃ অলোককুমার কুণ্ডু

কীভাবে বুথ লেভেল সংগঠন গড়ে তুলবেনঃ
লেখকঃ অলোককুমারকুমার কুণ্ডুর (প্রাক্তন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক) একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন।

         প্রথমতঃ এই মুহূর্তে বিজেপির যে নিজস্ব স্টাইলে সংগঠন ছিল তা খানিকটা আরএসএস 
অনুপ্রাণিত বা ধাঁচের হয়তো বা। বিজেপির নেতা থেকে কর্মীদের বুঝতে হবে ২০২৬-এর ৪ মে'র আগে তাদের যে সংগঠন ছিল তা খানিকটা এই বঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই ছিল না। এমনকি বুথে বসার মতো লোক-লস্কর ছিল না। সন্ত্রাসের ফলে মাত্র ২০% স্থানে তারা প্রচার করতে পেরেছিলেন। কিন্তু জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ভূমিকার ফলে বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু যে-কোনো পরিস্থিতিতে এই ক্ষমতা হস্তান্তর বিজেপির 
বিপক্ষে চলে যেতে পারতো, সামান্য এদিক ওদিক হলে।
         গত ২০২০ থেকেই বিজেপিতে নানা দলের কর্মী এবং নেতারা এসেছেন। তাতে একটা মিশ্র প্রকৃতির সংগঠন তৈরি হলেও সেখানে প্রথম থেকেই নিচুস্তরে একটা সংঘাত ছিল নতুন ও পুরাতন কর্মী ও নেতাদের মধ্যে। কারণ আজ যারা পুরনো বিজেপি হিসেবে টিঁকে রয়েছেন তাদের কার্যকাল মোটামুটি ৪০ থেকে ৫০ বছর হবে। তাই তাদের চালচলনের সঙ্গে ২০২০-২১ এ সদ্য বিজেপিতে আসা কর্মী ও নেতাদের সহজে মিলমিশ না হওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। কিন্তু আজ যে সংগঠন বিজেপির দাঁড়িয়েছে তা নতুন 
ও পুরাতন কর্মী ও নেতাদের মিলেমিশে তৈরি হয়েছে। কিন্তু তারও আগে বিজেপির মিসড কলের জন্য বহুজন বিজেপিতে এসেছিলেন। পরে পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভাবে তাদের অনেকেই আজ হারিয়ে গেছেন। ফোন নম্বরটা চেঞ্জ হওয়ার ফলে তাদের কাছে সেই রেফারেন্স নম্বর আজ আর নেই। এটা হয়েছে কিন্তু বিজেপির সাংগঠনিক পরিকাঠামোয় কোনো সঠিক নির্দেশনা না থাকায়। কে এইসব লোকেদের খুঁজে বার করবেন, কীভাবে তাদের কাজে লাগানো হবে এই ব্যাপারে মনে হয় সেইভাবে বিজেপির তেমন কোনও উদ্যোগ ছিল না। কিন্তু মাঝে অন্য জেলার কথা বলতে না পারলেও হাওড়া জেলায় বরুণ কুমার সিনহার উদ্যোগে একটা হোয়াটসঅ্যাপ ইন্টেলেকচুয়াল গ্রুপ খোলা হয়েছিল এবং বহুজনকে সংযুক্ত করাও হয়েছিল এবং আমাকেও। এখানে একটা মুশকিলের বিষয় রয়েছে। যেহেতু বিজেপি একটি আর্থিকভাবে সুসংহত দল তাই বিজেপিতে সংগঠন সঠিক ভাবে গড়ার চেয়ে ওই আর্থিক ভোগদখলকে কেন্দ্র করে একটা বৈষম্য রয়েছে সদস্যদের মধ্যে এবং বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে আজকেও। যার ফলে কিন্তু বরুণবাবুরা মনে হয় সংগঠনকে সোস্যাল মিডিয়া থেকে প্রান্তিক লেভেলে নামাতে পারেননি। যদিও এই ধারণা আমার ব্যক্তিগত। এখানে মনে রাখা দরকার সংগঠন যাই থাক না কেন, জনগণ কিন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে তৃণমূলকে হঠাতে চেয়ে। সরকারে বিজেপিকে আনার পেছেনে কিন্তু বিজেপির জেলা সংগঠন বা বুথ লেভেল যে কাজ করার কথা ছিল তা একেবারেই করতে পারেনি দুটি কারণে একঃ একটা অভূতপূর্ব সন্ত্রাস ছিল দুই
কর্মী সংখ্যাও কম ছিল। প্রথমত এই কারণে বিএলএ লেভেলে কেউ কার্যকর হয়নি। এর মূল কারণ একটা প্রচণ্ড ভয়ভীতি ও বাধা অসহযোগিতা। বুথের ভেতরে বসে লড়াই করার মতো লোক ছিল না, পাওয়া যায়নি। প্রার্থীদের সঙ্গে মিছিলে হাঁটার জন্য কয়েকজনকে পাওয়া গেলেও বাস্তবিক তেমন কর্মী ছিল না। ফেসবুকেও যে খুব কেউ লেখালিখি করে ছিলেন তাও নয়। বলতে গেলে বুথ লেভেল সংগঠন করতে হলে যে, ভোটারকে প্রথমে চিনতে হয়, সেখানে প্রচুর দুর্বলতা ছিল। এখানেই সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল বিজেপি। গ্রামে তবুও সদস্য পাওয়া গেলেও শহরে তেমন করিতকর্মা কর্মী ছিলনা। এই দোষ শুধুমাত্র বিজেপির সাংগঠনিক দোষত্রুটি নয়, ভয়ভীতি তার চেয়েও বেশি ছিল। তবে এই পর্ব এখন চলে গেছে। এখন উল্লেখ্য, রাজনীতিতে তিন ধরনের যে কর্মী লাগে, সেই নিয়ে বরং আলোচনা করা যাক।
       (১). বুথে বসার জন্য, যিনি ভোটার তালিকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে পরিচিত হবেন, (সঙ্গে লিফলেট থাকলে দেবেন), অন্ততপক্ষে বিজেপির কাজ সহজ করে বোঝাবেন ও কর্মসূচিটা বলবেন, এখানে সবচেয়ে জরুরি হলো, ঠাণ্ডা মাথায় ভোটারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও তাঁর সঙ্গে তর্ক-বিতর্কতে না যাওয়া। মুখে হাসি রাখা হচ্ছে সবচেয়ে জরুরি। ভোটারের পরিবারের কে কি করেন তার খবর রাখা। আর ভোটের দিন বুথের ভেতরে বসা এই জন্য সেই সেই ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে এলো কিনা এবং তাদের নিজেদের ভোট তারা দিলেন কিনা এটা সরেজমিনে ক্ষতিয়ে দেখা। হতে পারে ইনি হবেন বুথ সভাপতি, হতে পারে ইনি মণ্ডলের একজন পদাধিকারীও হতে পারেন। তার কাছে একটা রেজিস্ট্রার থাকা আবশ্যক যেখানে বাড়ির ঠিকানা ধরে একটা ছককাটা খাতা তৈরি করতে হবে। 
     (২). বুথ সভাপতির দায়িত্ব হবে সংগঠনকে মজবুতভাবে গড়ে তোলা। তাই তাকে একটা বড় রেজিস্ট্রার/খাতা করতে হবে যাতে প্রতি ভোটারের সমস্ত ডাটা তোলা থাকবে। নখদর্পণে তথ্য সংরক্ষণ করা মানে, বিজেপি দলটিকে আপনি অন্ততপক্ষে রাজ্যে কমপক্ষে আরও ২০ বছর দেখতে চান। তাই আপনার কাছে থাকতে হবে একজন ভোটারের সমস্ত পরিচিতি A থেকে Z (ক). বাড়ির ঠিকানা (খ). ভোটার নম্বর (গ) ভোটারের নাম (ঘ) তার পিতার নাম (ঙ) স্ত্রী হলে স্বামীর নামও থাকবে 
(চ). বয়স/ জন্ম তারিখ (ছ). পুরুষ/মহিলা 
(জ).বিবাহিত/ অবিবাহিত (ঝ). চাকরি বা পেশা (ঞ) কি ধরণের পেশা (ট) কোথায় চাকরি করেন (ঠ) পড়ুয়া হলে কি পড়াশোনা করেন, কোথায় (ড) সরকারের কি কি বেনিফিট (ভাতা) পেয়ে থাকেন তার নম্বর (ঢ) স্বাস্থ্য সাথী/ ইত্যাদি কি কি রয়েছে (ণ) ফোন নম্বর (ত) শিক্ষাগত যোগ্যতা (থ). বিজেপির সদস্য হলে সেই নম্বর।
      (৩). বুথ সভাপতির বা মণ্ডল সভাপতির কাজ হচ্ছে রাজ্য ও জেলা বিজেপি সাংগঠনিক নিয়মানুযায়ী যে যে বিভাগগুলো থাকবে তাদের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা একটি আলাদা রেজিস্ট্রারে/ খাতায়। সেখানে মণ্ডল/ দুর্গা বাহিনী/ মহিলা মোর্চা ইত্যাদি যে যে সংগঠন রয়েছে সব কটিকে আলাদা আলাদা পৃষ্ঠায় আলাদাভাবে নথিভুক্ত করা। তাদের (ক).নাম/ (খ) পিতার নাম (গ) ভোটার নম্বর (ঘ).বয়স-জন্ম তারিখ/ (ঙ). ঠিকানা (চ) পুরুষ/ মহিলা (ছ). তাদের চাকরি/ বেকার/পেশা ইত্যাদি জানা (জ). শিক্ষাগত যোগ্যতা (ঝ) ফোন নম্বর (ঞ).(সাংগঠনিক পদের নাম) (ট) বাড়ির ঠিকানা।
     (৪). উপরের দুটি রেজিস্ট্রার/ খাতার সঙ্গে একটি মিটিংয়ের রেজুলেশন খাতা দরকার 
     (৫). একটি নোটিশ খাতা থাকা দরকার যেখানে মিটিং বা কাজের নোটিশ গুলির একটি কপি থাকবে। 
      (৬). একটি মণ্ডল বা বুথ চালাতে হলে এই কটি খাতা দরকার যেমন, তেমনি একটি অফিস দরকার। যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সকলে উপস্থিত হবেন। 
      (৭). সংগঠনের মূল কাজ হচ্ছে মিটিং ডাকা/ ছমাস বা বছরে একটি বা দুটি সম্মেলন করা। তার রিপোর্ট তৈরি করে উচ্চ মহলে পাঠানো এবং উচ্চ স্তর থেকে নির্দেশ এলে কাজগুলি সম্পন্ন করা হচ্ছে যে কোনও রাজনৈতিক দলের মূল কর্তব্য।
     (৮). এরপর সংগঠনের মূল কাজ প্রচার করা। প্রচার করতে দেওয়াল লেখা, পোস্টার মারা, ফ্ল্যাগ টাঙানো, মিছিলে ও স্ট্রিট কর্নারে উপস্থিত থাকা। 
    (৯). বিভিন্ন মণীষীদের জন্মদিন পালন, পতাকা উত্তোলন এবং বক্তব্য রাখা ছাড়াও দলকে একটি দেশাত্মবোধক গানের স্কোয়াড তৈরি করার দিকে নজর দিতে হবে। এছাড়াও নানা কর্মসূচি পালনে সমাজের সমস্ত মানুষকে কাছে টানার উদ্যোগ নিতে হবে। এইসব গুলি হলো একটি আদর্শ সংগঠনের কাজ। এছাড়াও আছে রক্তদান শিবির রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী পালন, সমাজ সেবার জন্য হেলথ ক্যাম্প করা।
    (১০). মনে রাখতে হবে আদর্শ সংগঠন করা মানে হচ্ছে সমাজের সকলকে যুক্ত করা। শিক্ষক, শিক্ষিতজনেদের বেশি করে অংশগ্রহণ করানো। কিন্তু বিজেপির সাংগঠনিক পরিকাঠামোয় ইতিমধ্যে এইরকম কোন মতাদর্শগত সহমত বা বিরোধ আছে কিনা এই লেখকের জানা নেই। দ্রুত জড়তা কাটিয়ে সকলকে টেনে না নিলে আগামী নির্বাচনে ভালো ফল পাওয়া যাবেই এইকথা স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। 
    (১১). এছাড়াও কর্মীদের মধ্যে থেকে এক বা দুজনকে তৈরি করতে হবে যারা সমস্ত রকম ফর্ম পূরণ করাতে পারদর্শী হবেন। এছাড়াও আপনার বুথে মণ্ডলে সরকারের কোন আর্থিক সাহায্য করে পায়নি এবং কেন পায়নি সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা। এছাড়াও সরকারি কাজে আপনার এলাকায় কেউ যদি কোনো জায়গায় সরকারের কাছে প্রতিবন্ধকতায় পড়েন সেগুলো আপনার উচ্চ মণ্ডলে জানিয়ে বিহিত করতে পারলে জনগণ ও মণ্ডলের মধ্যে একটি এমন সেতু তৈরি হবে যার ফলে সেই উপকার আপনার ভোটের বাক্সে ফেলবে এবং আপনি একজন উপযুক্ত সংগঠন কর্মী হয়ে উঠতে পারবেন। ©® অলোক কুমার কুন্ডু, হাওড়া। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যাঃ অলোককুমার কুণ্ডু

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না য...

তৃণমূল গ্রামেগঞ্জে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে

           অভিষেক না হয় ধরে নেওয়া হলো একটা আনাড়ি, টাকার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি, ছোট থেকে অঢেল হাতে টাকা পয়সা বাড়িতে আসতে দেখে অর্থের পেছনে ছুটেছিল। ভালোমন্দ পেয়ে, আরো খাই আরো খাই করেছে। কিন্তু যে মমতা ব্যানার্জী দিনের পর দিন বাম জমানার খুন জখমের বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়েছিলেন একদা। লড়াকু নেত্রী হিসেবে উঠে এসে তিনি কীভাবে মানুষকে দিনের পর দিন নিপীড়ন করতে দেখেও সব ছেড়ে দিলেন গা ভাসালেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পুলিশ অফিসার, কোনও এমন কেউ একজন ছিলেন না, যিনি একটি বারও সতর্ক করলেন না তাঁকে। এত কাগজে লেখালিখি হলো, এত মিডিয়া কভারেজ হলো, কিছুই তিনি দেখলেন না। লকাপে পিটিয়ে মারা হলো, গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে গেল একের পর একটা পরিবার। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্ট এত করে বললেন বিচারপতিরা। সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী ভ্যানিশ করে দিলেন। এত রিগিং হলো। ভোট দিতে পারলো না শত শত লোক। খুনের পর খুন হয়ে গেল। বাড়ির পর বাড়ি জ্বললো। সব উনি দেখেও দেখলেন না। একটা ঘটনা নয়।             প্রতিটি জেলায় শত শত ঘটনাকে এইভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী দেখেও দেখলেন না ...

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে আর কিছু হওয়ার নেইঃ অলোককুমার কুণ্ডু

মমতা ব্যানার্জীর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার ওপর তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে এখনও তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে, তিনি হারতে পারেন না। অথচ আমার যারা লেখা পড়েন তাঁরা জানেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যখন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেদিন মঞ্চ থেকে বললেন তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন দখল করবে। সঙ্গে সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকে লিখলাম, তৃণমূল ৮০ টার বেশি পাবে না। এই ৮০ টা হিসেব করেছিলাম ৮৫টি মুসলমান সিটের দিকে তাকিয়ে। তার মধ্যে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ফস্কে বেরিয়ে গেলেন। আমার ধারণার বাইরে হলেও এইসব এরিয়ায় বেশ কিছু মুসলমান ভোট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ফলে সমস্ত এলাকার মতোই, এইসব এলাকার ভোটারদের দুভাবে প্রভাবিত করার ব্যাপক একটা চেষ্টা করা হয়েছিল, তৃণমূলের পক্ষে। ব্রেইনওয়াশ ও হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায় এবং মানুষকে, মমতা ব্যানার্জীর বোকা বানানোর দীর্ঘ কৌশল জানা রয়েছে। তিনি এই কৌশলটি অবলম্বন করে একের পর এক "ভাতা" সৃষ্টি করে গেছেন। এই খুচরো খুচরো ভাতা দিয়ে...