সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

[•] নির্বাচনে হিন্দু মুসলমান বিরোধের কারণেই এইবারে বিজেপির জয়ঃ লেখকঃ অলোককুমার কুণ্ডু


[•] নির্বাচনের প্রাক্কালে গত ১৯ মার্চ, ২০২৬-এ ফেসবুকে এই টেক্সট পোস্ট আমি করেছিলাম।
©® অলোককুমার কুণ্ডু 
-------------------------------------
       [•] আমাদের চিন্তা করে দেখা দরকার কারা এবং কবে থেকে হিন্দুদের মধ্যে মুসলমান বিরোধিতা এবং মুসলমানদের মধ্যে হিন্দু বিরোধিতা জাগিয়ে তুললো। আগে যেটা শুধুমাত্র ধর্ম কেন্দ্রিক ছিল, তাকে কে বা কারা হঠাৎ করে রাজনীতিকরণ করে দিল। হিন্দুরা কি মুসলমানদের জমিজমা, অন্ন বস্ত্রের বিরোধিতা করেছিল কখনও? এক কথায় করেনি। বললে বিশ্বাস করবেন না, বিজেপির মুখেও এত মুসলমান বিরোধিতা কখনও শোনা যেত না। এক গোধরাকে নিয়ে কিছু মানুষ, দিনের পর দিন এমন টেনে যেতে থাকলো যে, গোধরাকাণ্ড কবে হয়ে গেলেও তার হিসেব চলছে এখনও, কবে যে এর শেষ তা কেউ জানেন না। এর মূলে রয়েছে রাজনৈতিক দলের বদান্যতা। যার ফলে বিজেপিতে যেসব মুসলিম রয়েছে বা এসেছেন, তাদেরকেও মুসলমানরা গালাগালি শুরু করে দেয়। অথচ ভারতের ২০ টি রাজ্যে বিজেপি রয়েছে আর এখানকার, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান ছেলেমেয়েরা দিব্যি সেখানে গিয়ে কাজ করে চলেছেন। এইবারে তাদের অনেকেই এখানে মুসলমান ভোটের একদলীয় ব্যবস্থা কায়েমকে ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর হয়েছে। এই পরিযায়ী ভোট কোনও একটি মুসলিম দল এইবারে সম্ভবত আর একচেটিয়া পাবে না। এই অহেতুক হিন্দু মুসলমান বিরোধিতা এমন পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো এনে ফেলেছে, যাতে করে সমাজ জীবনে প্রভাব তো পড়েছেই, সবচেয়ে আকচা আকচি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক রঙের কারণে। কিন্তু এরই মধ্যেই একটি পার্টির দুই দল সমর্থকদের মধ্যে ঝগড়ায় প্রাণ চলে গেছে একজন মুসলমানের। মুসলমানদের মধ্যে মারপিট লাগিয়ে বা করিয়ে রাজ্যে টিঁকে থাকা বৃটিশ আমলের একটি পুরনো প্রাকটিস। সেই প্রথা সমাজে এমন গেড়ে বসেছে যে, মানুষ আজ বুঝতে পারলেও গ্রামীণ ভোটার কিন্তু এইবারে সেই কারণে আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে গেছে। 
         [•]  কে যে জিতে আসবে, একথা কেউ এইবারে গ্যারান্টি দিতে পারছে না। ঠিক এই কারণেই বহু প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ যে তৃণমূল মুসলমানদের ভরসা করতো তারাই হিন্দু নির্ভর কেন্দ্রগুলি জিততে চেয়ে ৭৪ জনকে বদল করেছে, যদিও এর মধ্যে কয়েকটি মুসলমান মুখও বদল হয়েছে। তৃণমূল শুধু বুঝতে পারেনি, বামপন্থীরাও হাড়ে হাড়ে বুঝেছে হুমায়ূনকে নিলে তাদের ৫% হিন্দু ভোট (২% মুসলিম ভোট) হাতছাড়া যদি হয়ে যায়। হিন্দুদের তারিফ করতে সকলেই উঠে পড়ে লেগেছে এখন। যে মীনাক্ষী নন্দীগ্রামের গত ২০২১-এ মুসলমান ভোটের জন্য দাঁড়াতে গিয়েছিল তিনিও ফিরে এসেছেন হিন্দু ভোটের টানে এইবারে। হিন্দু ভোট যেন সিপিআইএমের কাছেও বড় বালাইয়ের মতো। 
          এই যে হিন্দু ভোটকে ধরে বাঁচতে চাওয়া তাদের মনের গভীরের কথা কি এইবারে অত সহজে জানা যাচ্ছে? তৃণমূলকে যারা ভোট দিয়েছে, তারাও ভয়ে আজকাল রাস্তাঘাটে কথা বলতে ভয় পায়। মুসলমান পাড়ার মুসলমানরা পর্যন্ত কয়েকবছর ভোট দিতে পারে না, কারণ তাদের ভোট তাদের পাড়ায় থাকা তৃণমূলের লোকজন দিয়ে দেয়। এর ফলে কি হয়েছে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কয়েকবছর অনেকেই যায়নি। ভোটারের ভোটাধিকার তৃণমূল হরণ করে বসে রয়েছে। যদি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে কেউ গিয়ে থাকে তবে কোনক্রমে ভোট দিয়ে পালিয়ে আসে সে। নাম মিলিয়ে গুঁইগাঁই করার যে, কত দাম ছিল ভোটারের, এসআইআর হয়ে সকলে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে এখন যে যত জনগণ জীবিত রয়েছে তত জনগণ ভোটার। তাদের নাম ধরে কেউ ডেকে বলেনি যে, "হাই গো, তোমার নাম কার্ডে একরকম ভোটার তালিকায় একরকম কেনে গো। ও মেয়ে কারেকশন করনি বুঝি ?" নিজের ভোট নিজে না দিতে যাওয়ায় ২০% মানুষ জানতোই না যে তাদের নাম তালিকায় একরকম কার্ডে অন্যরকম। বাবা/ পিতা/ আব্বার নামেও যে ভুলভাল চলছে এইসব খেয়ালের দরকার হয়নি গত ১৫ বছর।
কারণ সব ভোট করেছে তৃণমূল। ভোট করা আর ভোট দেওয়ার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। 
" ও তুই এসেছিস দে দে আমাদের প্রার্থীকে দিতে ভুল করিসনি।" পারলে উঠে গিয়ে সুইচ টিপে গ্যাঁ করে আওয়াজ হতেই বলেছে," যা তোর ভোট হয়ে গেল, এখন আঙুলের কালিটা দেখিয়ে বাইরে গিয়ে সেলফি তোল।" ভোটারের আনন্দ ধরে না। নাম-ধাম চেক হয়নি, কারো সন্দেহ জাগেনি, ভোট দেওয়ার জন্য তোমাকে কেউ আততায়ী মনে করেনি, কোথাও আটকায়নি এতেই তুমি ভীষন সন্তুষ্ট ছিলে। এখন হাও গেল ফুও গেল। নাম কাটার দলে যোগ দাও গো। ট্রাইব্যুনালে যাও, উকিলের ফিজ যোগাও। বরং বিজেপি, সিপিআইএম এজেন্টরা যদি দু-দণ্ড তোমাকে সন্দেহ করতো, যদি বলতো বাবার নাম কার্ডে একরকম, ভোটার তালিকায় অন্য তখন মনটা খচখচ করতো, তাহলে ভোটের পর ঠিক করে নেবো গো এখনকার মতো দিতে দাও না, তারা গোয়েন্দার মতো জিজ্ঞেস করতো, ওই পাড়ায় থাকো না? অমুকের মেয়ে তমুকের ভাইজি বললে একজন ঘাড় নাড়তো।‌ বাইরে লাইনের লোকজন একটু অধৈর্য হতো বটে। এখন কয়েক বছর এই গেলে আর এলে। কেউ বাধা দেয়নি। এটাই তোমার কাল হয়েছে জেনে রাখো। বাম আমলে ওরা এলসি অফিসে বসে এইসব ঠিকঠাক করতো বাদসাদ দিত। ভাল মন্দ দুই ছিল। এই আমলে এত হুড়হুড়ে ভোট হতে লাগলো কেউ আর দেখলোই না কার্ড আর ভোটার তালিকা দুটোয় কোথাও অমিল আছে কি না ? এসআইআর হয়ে যেন মনে হচ্ছে হিন্দুদের জয় হয়েছে বুঝি। মুসলমানদের বোঝানো হয়েছে বিজেপি এইসব করিয়েছে। যে সকল হিন্দুর নাম বাদ গেছে সেখানে বলাহলো, এখানেও বিজেপির দোষ। আসলে টার্গেট ছিল বেআইনি আয়ের। তাকে সামাল দিতেই হিন্দু মুসলমান বিরোধ। লেখকঃ অলোককুমার কুণ্ডু প্রাক্তন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক। ( ফেসবুক পোস্ট ১৯/০৩/২০২৬)।https://www.youtube.com/channel/UC9WHk2OdVQ7eGOZlhVCchNw

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যাঃ অলোককুমার কুণ্ডু

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না য...

তৃণমূল গ্রামেগঞ্জে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে

           অভিষেক না হয় ধরে নেওয়া হলো একটা আনাড়ি, টাকার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি, ছোট থেকে অঢেল হাতে টাকা পয়সা বাড়িতে আসতে দেখে অর্থের পেছনে ছুটেছিল। ভালোমন্দ পেয়ে, আরো খাই আরো খাই করেছে। কিন্তু যে মমতা ব্যানার্জী দিনের পর দিন বাম জমানার খুন জখমের বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়েছিলেন একদা। লড়াকু নেত্রী হিসেবে উঠে এসে তিনি কীভাবে মানুষকে দিনের পর দিন নিপীড়ন করতে দেখেও সব ছেড়ে দিলেন গা ভাসালেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পুলিশ অফিসার, কোনও এমন কেউ একজন ছিলেন না, যিনি একটি বারও সতর্ক করলেন না তাঁকে। এত কাগজে লেখালিখি হলো, এত মিডিয়া কভারেজ হলো, কিছুই তিনি দেখলেন না। লকাপে পিটিয়ে মারা হলো, গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে গেল একের পর একটা পরিবার। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্ট এত করে বললেন বিচারপতিরা। সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী ভ্যানিশ করে দিলেন। এত রিগিং হলো। ভোট দিতে পারলো না শত শত লোক। খুনের পর খুন হয়ে গেল। বাড়ির পর বাড়ি জ্বললো। সব উনি দেখেও দেখলেন না। একটা ঘটনা নয়।             প্রতিটি জেলায় শত শত ঘটনাকে এইভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী দেখেও দেখলেন না ...

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে আর কিছু হওয়ার নেইঃ অলোককুমার কুণ্ডু

মমতা ব্যানার্জীর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার ওপর তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে এখনও তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে, তিনি হারতে পারেন না। অথচ আমার যারা লেখা পড়েন তাঁরা জানেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যখন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেদিন মঞ্চ থেকে বললেন তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন দখল করবে। সঙ্গে সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকে লিখলাম, তৃণমূল ৮০ টার বেশি পাবে না। এই ৮০ টা হিসেব করেছিলাম ৮৫টি মুসলমান সিটের দিকে তাকিয়ে। তার মধ্যে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ফস্কে বেরিয়ে গেলেন। আমার ধারণার বাইরে হলেও এইসব এরিয়ায় বেশ কিছু মুসলমান ভোট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ফলে সমস্ত এলাকার মতোই, এইসব এলাকার ভোটারদের দুভাবে প্রভাবিত করার ব্যাপক একটা চেষ্টা করা হয়েছিল, তৃণমূলের পক্ষে। ব্রেইনওয়াশ ও হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায় এবং মানুষকে, মমতা ব্যানার্জীর বোকা বানানোর দীর্ঘ কৌশল জানা রয়েছে। তিনি এই কৌশলটি অবলম্বন করে একের পর এক "ভাতা" সৃষ্টি করে গেছেন। এই খুচরো খুচরো ভাতা দিয়ে...