সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আসলে একজন অপদার্থ মুখ্যমন্ত্রী আর একজন যোগ্য বিরোধী নেত্রী এই দুটিকে আমরা সকলে একটি মাত্র সোনার পাথর বাটি ভেবেছিলাম। অলোক কুমার কুন্ডু

আসলে একজন অপদার্থ মুখ্যমন্ত্রী আর একজন যোগ্য বিরোধী নেত্রী এই দুটিকে আমরা সকলে একটি মাত্র সোনার পাথর বাটি ভেবেছিলাম।
------------------------------------------
তারক সিং কিছু ভুল বলেনি। এরা তো পুরনো কংগ্রেসি। তাই সবকিছু বুঝেছে। তারক আসলে মমতা ব্যানার্জীর মুখোশ খুলে দিয়ে ছাল-চামড়া গুটিয়ে দিলেন। যা যা বলেছেন, তা একেবারে নির্মম সত্য। মমতা ব্যানার্জীর ভাইদের একটা ছাপোষা বালির গোলা ছিল। ছাত্র পরিষদ করার সময় মমতা ব্যানার্জীর দ্বিতীয় একটা শাড়ি ছিল না।
আমাদের কলকাতা ডি.আই অফিসে গিয়ে প্রাইমারি শিক্ষকের চাকরির জন্য বসে থাকতেন যখন, তখন
তার পরণে থাকতো ছেঁড়া সেফটিপিন লাগানো শাড়ি।
তখন তিনি দুধের ডিপোয় কাজ করতেন।মমতা ব্যানার্জীর বাড়ির ২০০৯/২০১০/২০১১-এর ভিডিও রয়েছে আমার কাছে, ওনাদের সাকুল্যে তিনটি মাত্র ঘর। পেছনে একটা বাথরুম ও একটা রান্নাঘর। সব টিনের চাল। শুধুমাত্র দুটিঘর একতলা ছাত ঢালাই ছিল। পেছন দিকে ছোট খোলা সিঁড়ি ওই একতলা ছাদে ওঠার জন্য। একটা ছোট অফিস ঘর ছিল। চারিদিকে সব ফাঁকা। ধীরে ধীরে পাশের মিটিংয়ের
ঘর টিনের চালা ২০১১-এর নির্বাচনের আগে তৈরি হয়। আমার কাছে ২০০৯-এর সাংবাদিক সম্মেলনের
ভিডিও তোলা রয়েছে। চতুর্দিকে বালি গোলার মধ্যে
চেয়ারে গোল হয়ে বসে সাংবাদিক সম্মেলন হলো।
সুব্রত মুখোপাধ্যায় কথাবার্তার অধিকাংশ উত্তর দিলেন
গোটা ৭/৮ জন সাংবাদিক চারিদিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে।
চারপাশে ছোট কারখানা গায়ে গায়ে অন্য প্রতিবেশীর। সামনেটায় খোলা জায়গায় ইঁট, বালি। তখন রঙের দোকান ছিল না। তারক সিং-রা তখন যেতেন তো মমতা ব্যানার্জীর বাড়ি ২০১১-এর পরে। পুরনো কংগ্রেসের কর্মীরা তো মমতা ব্যানার্জীর স্ট্যাটাস সব জানেন। কীভাবে এত তাড়াতাড়ি এত সম্পদ হলো একটা পরিবারের? হঠাৎ করে যুব কংগ্রেস থেকে
কেন যুবা হলো। আসলে মমতা ব্যানার্জী যেদিন বুঝলেন প্রণব মুখার্জী থেকে সোনিয়া গান্ধী সকলকে তিনি নাকানিচোবানি খাওয়াতে পারেন। অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁর বাড়ি চলে আসেন তখন থেকেই তিন পুরোদস্তুর হাত দিয়ে ভারতবর্ষের সমস্ত নেতার মাথা কেটে ফেলতে লাগলেন। এখন বোঝা যাচ্ছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন প্রশাসনের এতবড় কর্মকাণ্ড দেখে খেই হারিয়ে ফেলেন। সরকারকে ক্লাব পর্যায়ে নামিয়ে আনেন। সিনেমা আর্টিস্ট নাটক গান বাজনা মন্দির নিয়ে মেতে ওঠেন। বেকার সমস্যার মাথায় ডাণ্ডা মেরে চাকরি বিক্রির বিষয়ে জড়িয়ে গিয়েও মানতে চান না এইসব কাজ ঠিক হয়নি। অভিষেক ব্যানার্জীর পাল্লায় পড়ে দলটার পরিচালন ভার ছেড়ে দেন রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ একজন অর্থলোভী ভাইপোর হাতে। রাজ্য প্রশাসন চালাতে থাকেন নিজের মনোমত একদল লোভি অফিসারকে দিয়ে। প্রশাসনের অর্ধেকটা চলে যায় একটা অনভিজ্ঞ লোভাতুর চুরি জোচ্চুরিতে সিদ্ধহস্ত ভাইপোর হাতে। প্রশাসনকে টেনে নামিয়ে আনেন একেবারে রাস্তায় প্যান্ডেল করে সকলের সামনে। যতরকম ভাতা ছিল সেগুলো সকলের মধ্যে বিতরণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে কি না কি ভাবতে শুরু করেন। আসলে যে রাজ্যকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার মানসিকতা তাঁর ছিল সেটাই এখন বোঝা যাচ্ছে। তারক সিং পুরাতন কংগ্রেস কর্মী। তিনি কংগ্রেসকে কীভাবে ভেঙে ফেলতে দেখেছেন তা জানেন। তাঁরা দলে দলে কংগ্রেস পরিত্যাগ করে যে, তৃণমূলে এসেছিলেন, এখন তাদের রাজনীতিটাই সম্পূর্ণ শেষ করে দিলেন মমতা ব্যানার্জী। সারা রাজ্যে শুধু মাত্র ১৫ বছর ধরে তিনি চুরিতে মদত যুগিয়েছেন। খানিকটা একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে তিনি সরকার চালাচ্ছিলেন। অভিষেক হয়ে উঠেছিলেন নির্মম এক শাসক। গ্রামবাংলাকে তৃণমূলের গুণ্ডামস্তান কেওড়াদের দিয়ে সারা বাঙলাকে তটস্থ করে রেখেছিলেন। পুলিশ কেস দিয়ে দিয়ে বিরোধীদলীয়দের একরকম দমন পীড়নের মাধ্যমে চুপ করিয়ে রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে মমতা ব্যানার্জী ও অভিষেক ব্যানার্জীর নির্মমতা নিয়ে একটা ইতিহাস লেখা হবে। নিজে লড়াই করেছিলেন তো শুধু নয়, ২১ জুলাই মমতা ব্যানার্জীর হঠকারিতার জন্য কতগুলো কংগ্রেসের কর্মী মারাও গিয়েছিলেন। বামপন্থীদের অত্যাচার থেকে বাঙলাকে বাঁচাতে যে মমতা ব্যানার্জী বাড়ি বাড়ি ছুটে যেতেন, তিনি যে সরকারকে হাতে পেয়ে অভিষেকের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ধনসম্পদ গড়ে তুলবেন এটা পশ্চিমবঙ্গবাসী কখনও ভাবতে পারেননি। কিন্তু এটা হয়েছে। অভিষেক ২০১৬-তে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ বলে নিজের ছবি দিয়ে যুবার কর্মীদের দিয়ে শত শত পোস্টার মারিয়েছিলেন এবং একসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী, মুকুল রায়কে কোনঠাসা করে ফেলেছিলেন, কিন্তু কেন ? তারপর থেকে পুলিশকে দিয়ে সারা রাজ্যে এমন কোনো নিকৃষ্টতম কাজ নেই তা অভিষেক করেনি। যখন যা চেয়েছেন করেছেন। আর তারক সিং বলছেন, সমস্ত কাজেই মমতা ব্যানার্জীর মদত ছিল একেবারেই সঠিক। তারক ব্যানার্জী বিজেপিতে যদি যান তবেও তারক সিংয়ের কথা ফেলে দেওয়ার নয়। এত চুরি এত নির্মমতা যে বাংলাজুড়ে হয়ে গেল, তাকে আমরা কীভাবে যে এত তোল্লাই দিলাম তা ভেবেই আমি আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি। আর মমতা ও অভিষেকের এই কাজ যে আরো বছর বছর ধরে চলতে থাকুক, সিপিআইএম কিন্তু তা চেয়েছিল। ©® অলোক কুমার কুন্ডু

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যাঃ অলোককুমার কুণ্ডু

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না য...

তৃণমূল গ্রামেগঞ্জে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে

           অভিষেক না হয় ধরে নেওয়া হলো একটা আনাড়ি, টাকার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি, ছোট থেকে অঢেল হাতে টাকা পয়সা বাড়িতে আসতে দেখে অর্থের পেছনে ছুটেছিল। ভালোমন্দ পেয়ে, আরো খাই আরো খাই করেছে। কিন্তু যে মমতা ব্যানার্জী দিনের পর দিন বাম জমানার খুন জখমের বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়েছিলেন একদা। লড়াকু নেত্রী হিসেবে উঠে এসে তিনি কীভাবে মানুষকে দিনের পর দিন নিপীড়ন করতে দেখেও সব ছেড়ে দিলেন গা ভাসালেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পুলিশ অফিসার, কোনও এমন কেউ একজন ছিলেন না, যিনি একটি বারও সতর্ক করলেন না তাঁকে। এত কাগজে লেখালিখি হলো, এত মিডিয়া কভারেজ হলো, কিছুই তিনি দেখলেন না। লকাপে পিটিয়ে মারা হলো, গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে গেল একের পর একটা পরিবার। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্ট এত করে বললেন বিচারপতিরা। সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী ভ্যানিশ করে দিলেন। এত রিগিং হলো। ভোট দিতে পারলো না শত শত লোক। খুনের পর খুন হয়ে গেল। বাড়ির পর বাড়ি জ্বললো। সব উনি দেখেও দেখলেন না। একটা ঘটনা নয়।             প্রতিটি জেলায় শত শত ঘটনাকে এইভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী দেখেও দেখলেন না ...

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে আর কিছু হওয়ার নেইঃ অলোককুমার কুণ্ডু

মমতা ব্যানার্জীর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার ওপর তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে এখনও তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে, তিনি হারতে পারেন না। অথচ আমার যারা লেখা পড়েন তাঁরা জানেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যখন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেদিন মঞ্চ থেকে বললেন তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন দখল করবে। সঙ্গে সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকে লিখলাম, তৃণমূল ৮০ টার বেশি পাবে না। এই ৮০ টা হিসেব করেছিলাম ৮৫টি মুসলমান সিটের দিকে তাকিয়ে। তার মধ্যে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ফস্কে বেরিয়ে গেলেন। আমার ধারণার বাইরে হলেও এইসব এরিয়ায় বেশ কিছু মুসলমান ভোট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ফলে সমস্ত এলাকার মতোই, এইসব এলাকার ভোটারদের দুভাবে প্রভাবিত করার ব্যাপক একটা চেষ্টা করা হয়েছিল, তৃণমূলের পক্ষে। ব্রেইনওয়াশ ও হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায় এবং মানুষকে, মমতা ব্যানার্জীর বোকা বানানোর দীর্ঘ কৌশল জানা রয়েছে। তিনি এই কৌশলটি অবলম্বন করে একের পর এক "ভাতা" সৃষ্টি করে গেছেন। এই খুচরো খুচরো ভাতা দিয়ে...