সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অম্বর হে গম্ভীর! -অলোক কুন্ডু

অম্বর হে গম্ভীর! -অলোক কুন্ডু

‘নীল- অঞ্জনঘন পুঞ্জছায়ায় সমবৃত অম্বর হে গম্ভীর।' আকাশ বুঝি সত্যি খুব গম্ভীর ? ভ্যাপসা গরমে বুঝি আর পারা যায় না। যাদের কানাকড়ির অভাব নেই তাদের হাঁসফাস একটু কম। বলতেই হচ্ছ-‘আল্লা মেঘ দে পানি দে' তবু তো বৃষ্টি তেমন কই গো। যাদের ঘরে এ.সি আছে তাদের সোনায় সোহাগা। দু পয়সা থাকলে আরাম কেনা তো সামান্য ব্যাপার তাই না ? কিন্তু জল মানে যদি বৃষ্টিকেই প্রথম ভাবি তবে তা কেনা তো সহজ সাধ্য নয়। তবু নাকি বিজ্ঞানীরা সে চেষ্টাও করেছেন, কিন্তু সেও তো ক্ষণিকের অতিথি। আপনি নিশ্চিত জানেন জলের উপাদান আসলে কী ? ভুলে গেছেন তাতে কি, জলের উপাদান সেই একই তো রইলো। হাইড্রোজন আর অক্সিজেন দু-ভাগ হাইড্রোজেন আর একভাগ অক্সিজেন মিলে হয় জল, আর ফরাসী বিজ্ঞানী এন্টনিয়ে লাভয়সিয়ের প্রথম বোঝালেন এটা একটা যৌগিক পদার্থ। বিজ্ঞানের কথায় হাইড্রোজেন জলের অনুগুলিকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে। জলের অনুতে আবার ডয়টেরায়াম, ট্রিটিয়াম নামে বিভিন্ন উপাদান থাকে। এসব ভারী ভারী বৈজ্ঞানিক নামের তালিকা নাইবা জানলেন। আমিও কি ছাই জানতাম। এই লেখাটির জন্য শিখতে হলো, জানতে হলো। কিন্তু আমরা যত সহজে জলচক্রের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকি আসলে জলের আবর্তনের বিষয়টি অতটা কম সময়ে হয় না। বিজ্ঞানী রা দেখেছেন মহাসাগরের একটি জলকণা বাষ্পীভূত হয়ে মেঘের রাজ্যে বিচরণের পর অতিক্রম করে আবার সাগর জলের অতলে মিলিয়ে যেতে তার সময় লেগে যায় প্রায় চল্লিশ হাজার বছর। কিন্তু আমাদের পন্ডিত শিক্ষকদের একবার কথা ভাবুন। তারা কিন্তু কেউই এতটা জানেননা। আর ছাই শিক্ষামন্ত্রীও
তো জানেন না। এত লক্ষ বছরের হিসাবটা যেন মৃণাল সেনের কলকাতা ৭১-এর জাম্প কাটের মতো, ঘ্যাচাং করে একটা সিন থেকে একটা সিনে যাওয়ার জন্য মাছের মাথা কেটে ফেলে দর্শককে বোঝানোর মতো। এক নিমেষে কোথা থেকে কোথায়। আর কচি ছেলেমেয়েদের কীভাবে মিথ্যা বোঝানো বুঝুন একবার। তেন এক নিমেষে জলচক্র ঘুরছে। কেন এটা সিলেবাসে কেন গোটানো বাপু। ছেলেদের মাথায় মিথ্যা ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ভাবা যায়। আসলে জলের সঙ্গে বৃষ্টি আর নদীর সম্পর্কের কথা জানানোর জন্য এই প্রক্রিয়া ভেবেছেন তারা তারাও কি সকলে জানতেন ? আমার মনে হয় সময়টা তারাও জানতেন না। সকলের ধারণা জল গরম হলে বাষ্প হয় আকাশের উঠে ঘুরতে ঘুরতে মেঘ হয় আর বৃষ্টি হয়ে নামে। এখন এই ছেলে ভুলোনো জলচক্রএর কথা কে আর না জানেন। কিন্তু মনে মনে যদি ভাবি বৃষ্টিতো মননে রয়েছে মরমে রয়েছে তাহলে ? তাহলে কি খুব ভুল হবে? আসলে বৃষ্টির প্রার্থনায় আমাদের ভাবনার জগৎ যেন ছেয়ে আছে। বৃষ্টির জন্য প্রেম করতে বেরিয়ে কতজন
মে সময়ে পৌঁছতে পারেনি, কতজন বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি সেইসব কথা কত যে অজানা
রয়ে গেছে তা কে জানে। আরে বাবা এই তো সবে ফোন এসেছে তার আগে তো আঙুলের ইশারায় সব কাজ হতো দূর থেকে। তাই বলছিলাম আর কি বৃষ্টির জন্য যেমন প্রেম থমকে গেছে তেমনি বৃষ্টি হলে প্রেমিক প্রেমিকা ভেজেনি এমন কথা হলফ করে বলাও যাবেনা। আবার বৃষ্টির সঙ্গে যে কত দুঃখকষ্ট জড়িয়ে যায় তাও আছে। আর যদি তেমন কালজয়ী লেখকের হাতে বৃষ্টি পড়েছে তো একেবারে সেই লেখনী অমর হয়ে যায়। কেন পথের পাঁচালী পড়েন নি? চারিধারে শুধু মুষলধারে বৃষ্টিপতনের হুস্- স্-স্-স্ একটানা শব্দ, মাঝে মাঝে দমকা ঝড়ের সোঁ-ও-ও-ও, বোঁ-ও-ও-ওরর্, ডাল-পালার ঝাপটের শব্দ,মেঘের ডাকে কানে তালা ধরিয়া যায়। অপু বলিল দিদি বিষ্টি যদি আর না থামে, দুর্গা তাহাকে আরও কাছে টানয়া আনিয়া শেষ আশ্রয়ের সাহসে বার বার দ্রুত আবৃত্তি করিতে লাগিল - নেবুর পাতায় করমচা/হে বৃষ্টিধরে যা/ নেবুর পাতায় করমচা/হে বৃষ্টি ধরে যা। আচ্ছা ভাবুন তো, মাণিকবাবু ওই বৃষ্টিকে এমন ব্যাপক ভাবে ক্যামেরায় নিলেন যা এতাবৎকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ডুয়েট গান বৃষ্টিস্নাত রাজনার্গিসের অমন ভারত কাঁপানো 'প্যার হুয়া'-র ধফারফা করে ছেড়ে দিলেন। না দুটো দুরকম সিনেমা কিন্তু আলোচনা বেশি হলো পথের পাঁচালীর বৃষ্টির দৃশ্য নিয়ে। কিন্তু ততদিনে অবশ্য রাজকাপূর বেদম পয়সা কামিয়েছেধ শঙ্কর-জয়কিষণ-কে নামিয়ে দিয়ে।
এখনও যদি মনে করেন গুমট এতেও কাটেনি, তবে গুনগুন করে গাইতেই পারেন অমিতাভ-মৌসুমীর “গিরেসাওন'। কি কিছুটা গুমট ভাব কাটল ?কেন আরতি মুখার্জীর গান মনে নেই? টাপুর টুপুর সারা দুপুর নূপুর বাজায় কে ?যেন এক কাজলা মেয়ে। মান্না দে'র কন্ঠে রিম্ ঝিম্ ঝিম্‌ বৃষ্টি/মাটির কানে কানে/এ কী কথা নিয়ে পড়ে ঝরে ঝরে। সুধীন দাশগুপ্তের কথা ও সুরে নাচ ময়ূরী নাচরে, ঝুম ঝুমা ঝুম নাচ রে/ওই এলো আকাশ ঘিরে ও বর্ষা রাণীর সাজরে..এই রিম ঝিম বরষা/হাওয়া হিম হিম পরশা। এই ঝির ঝির বাতাসে/এই গান ভেসে আসে/সেই সুরে সুরে মন নাচে উল্লাসে।..এলো বরষা যে সহসা মনে তাই/রিম ঝিম ঝিম রিম ঝিম ঝিম গান গেয়ে যাই। যতীন্দ্র নাথ সেনগুপ্তের কথা-থৈ থৈ শাওন এলো ওই/পথ হারা বৈরাগী রে তোর একতারাটা কই। সলিল চৌধুরীর... শোনো কোনো একদিন আকাশ বাতাস জুড়ে/রিমঝিম বরষায় দেখি তোমার চুলের মতো মেঘ সব ছড়ানো হেমন্ত-পুলক-লতাজির মণিহার ছায়াছবির গানটা আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন/ঝর ঝর ঝর ঝর ঝরেছে। আরও পুরনো গান-ঠুং ঠাং ঠুং ঠাং চুড়ির তালে থৈ থৈ বন্যা নাচ রে/রিম ঝিম রিম ঝিম বরষাতে জলতরঙ্গ বাজে রে। হয়তো বলবেন 'জল আর জলপাই কী মশাই এক হ'ল ? তাহলে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়র কবিতা আছে তো বৃষ্টিধারা ছুঁয়ে ছুঁয়ে হেঁটেছে নীরা, আর মণীষারা আড়াল থেকে দুঃখী চোখে তাকিয়ে থেকেছে তার দিকে। তবু বুঝি অম্বরকে গম্ভীর মনে হয়? আসলে যে হারে কোরোফ্লুরো কার্বন বেড়ে চলেছে শেষে তবে কি আমরা এ.সির বদলে গান আর কবিতা দিয়ে গরম তাড়াবো ? একথা আপনারা জিজ্ঞেস করতেই পারেন। এটাই কি তবে ভবিতব্য ? না ঠিক নয়। বরং বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা আর ক'দিন একটু করি, প্রার্থনা করি সেই অমরাবতীর জন্য। এসেই গেছেন তিনি--এসো হে এসো সজল ঘন বাদলবরিষনে'।
©® অলোক কুমার কুন্ডু 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যাঃ অলোককুমার কুণ্ডু

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না য...

তৃণমূল গ্রামেগঞ্জে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে

           অভিষেক না হয় ধরে নেওয়া হলো একটা আনাড়ি, টাকার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি, ছোট থেকে অঢেল হাতে টাকা পয়সা বাড়িতে আসতে দেখে অর্থের পেছনে ছুটেছিল। ভালোমন্দ পেয়ে, আরো খাই আরো খাই করেছে। কিন্তু যে মমতা ব্যানার্জী দিনের পর দিন বাম জমানার খুন জখমের বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়েছিলেন একদা। লড়াকু নেত্রী হিসেবে উঠে এসে তিনি কীভাবে মানুষকে দিনের পর দিন নিপীড়ন করতে দেখেও সব ছেড়ে দিলেন গা ভাসালেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পুলিশ অফিসার, কোনও এমন কেউ একজন ছিলেন না, যিনি একটি বারও সতর্ক করলেন না তাঁকে। এত কাগজে লেখালিখি হলো, এত মিডিয়া কভারেজ হলো, কিছুই তিনি দেখলেন না। লকাপে পিটিয়ে মারা হলো, গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে গেল একের পর একটা পরিবার। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্ট এত করে বললেন বিচারপতিরা। সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী ভ্যানিশ করে দিলেন। এত রিগিং হলো। ভোট দিতে পারলো না শত শত লোক। খুনের পর খুন হয়ে গেল। বাড়ির পর বাড়ি জ্বললো। সব উনি দেখেও দেখলেন না। একটা ঘটনা নয়।             প্রতিটি জেলায় শত শত ঘটনাকে এইভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী দেখেও দেখলেন না ...

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে আর কিছু হওয়ার নেইঃ অলোককুমার কুণ্ডু

মমতা ব্যানার্জীর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার ওপর তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে এখনও তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে, তিনি হারতে পারেন না। অথচ আমার যারা লেখা পড়েন তাঁরা জানেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যখন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেদিন মঞ্চ থেকে বললেন তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন দখল করবে। সঙ্গে সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকে লিখলাম, তৃণমূল ৮০ টার বেশি পাবে না। এই ৮০ টা হিসেব করেছিলাম ৮৫টি মুসলমান সিটের দিকে তাকিয়ে। তার মধ্যে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ফস্কে বেরিয়ে গেলেন। আমার ধারণার বাইরে হলেও এইসব এরিয়ায় বেশ কিছু মুসলমান ভোট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ফলে সমস্ত এলাকার মতোই, এইসব এলাকার ভোটারদের দুভাবে প্রভাবিত করার ব্যাপক একটা চেষ্টা করা হয়েছিল, তৃণমূলের পক্ষে। ব্রেইনওয়াশ ও হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায় এবং মানুষকে, মমতা ব্যানার্জীর বোকা বানানোর দীর্ঘ কৌশল জানা রয়েছে। তিনি এই কৌশলটি অবলম্বন করে একের পর এক "ভাতা" সৃষ্টি করে গেছেন। এই খুচরো খুচরো ভাতা দিয়ে...