সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তৃণমূলের প্রতি হুমায়নের হুঙ্কার ও বাবরি মসজিদ

তবে যদি হুমায়ূন কবির নাটক না করেন, তবে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে তিনটি দলকে দেখা যাবে যেখানে মুসলমান সমাজের ভাগ হওয়ার 
আশঙ্কা থাকছে। তবে এইরকম হবে বলে যারা ভাবছেন, তা নাও হতে পার। কারণ হুমায়ূনের উদ্যোগে লক্ষাধিক জমায়েত হলেও হুমায়ূন কবিরের ব্যাকগ্রাউন্ড খুব একটা শক্তপোক্ত নয়। এখনও পরিষ্কার নয় এই বিষয়টি যে, হুমায়ূন কবিরের এই উদ্যোগ সত্যি কি-না ? কারণ নির্বাচন এলেই হুমায়ূন কবিরের এক একটা উদ্যোগ দেখা যায়। তবে যদি আজকের ঘটনা মনেপ্রাণে সৎ হয় তবে প্রথম ক্ষতি হবে তৃণমূলের। কারণ এই উদ্যোগের সঙ্গে গরিব মানুষকে জড় করতে পেরেছেন হুমায়ূন। উনি একটা মারাত্মক রেসিওর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। যা সাম্প্রদায়িক হলেও মুসলমান সমাজের প্রচলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতি নজর ঘুরিয়েছেন। যেটা মুসলমান যুব সমাজের কাছে একটা বড় দাবি। কিন্তু এই যে হুমায়ূন কবির এই উদ্যোগ নিলেন, সেখানে স্পষ্ট করেছেন তিনি নিজেই যে, তার এই উদ্যোগের সঙ্গে শুধুমাত্র বাঙালি মুসলমানরা রয়েছেন। অর্থাৎ হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রিক মুসলমান রাজনীতির সাহায্য তিনি চান না। তবে বহু মানুষ কিন্তু কি হিন্দু কি মুসলমান সমাজ থেকে এখনই এই বিষয়ে হয়তো কোনো সাড়াশব্দ করছেন না। কারণ হুমায়ূনকে বিশ্বাস করা মুশকিল। অনেকেই দেখে নিতে চাইছেন। মসজিদ হয়তো বহু জন চাইতে পারেন, কিন্তু যদি হুমায়ূনকে বাদ দিয়ে হতো, তাহলে বহুজনের সাহায্য আসতো। কিন্তু হুমায়ূনের ডাক এখানে খানিকটা পিছিয়ে পড়া মুসলমান সমাজের প্রতি। যত রাজমিস্ত্রি পরিবার এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। কিশোর কিশোরী থেকে বালকদের যোগদান বড় ভয়ঙ্কর বার্তা দেয়। অর্থাৎ পরিবারের সকলের মনেপ্রাণে যোগদান আছে। হাইকোর্টে কেসটি উঠে বরং হুমায়ূনের উদ্যোগকে পুলিশের দ্বারা সাহায্য পেতে সহায়তা দিয়েছে। সকলেই একটা ভাবনায় রয়েছেন শিলান্যাস হলেও মসজিদ হতে দেরি হবে। কিন্তু একটা জাগরণ ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে কোথাও ১০% মুসলমানদের জীবনকে হুমায়ূন টানতে পেরেছেন নিশ্চিত। মুর্শিদাবাদে এটা ৬০% থেকে ৭০% হতেও পারে। কিন্তু ইতিমধ্যে মুসলমান সমাজ থেকে একটি পৃথক রাজনৈতিক দল রয়েছে তাদের এম এল এও আছেন, বামপন্থীদের সঙ্গে তাদের ওঠাবসা রয়েছে। অনেকেই ভাবছেন বামেদের এইবার অবস্থা খারাপ ছিল, তারা হয়তো হুমায়ূনকে মদত দিতেও পারে। পিকচার আভি বাকি হ্যায় বহুৎ। কিন্তু শেষে পর্যন্ত হয়তো দেখা যাবে এইবার তৃণমূলের আরও ৫/৬ জন মুসলিম ক্যান্ডিডেট ভোটে লড়বেন তাতে করে কিন্তু হুমায়ূনের হুমকি ধুলোয় মিশে যেতে পারে। শুধু ধর্ম দিয়ে হয়তো নির্বাচনে মুসলমান সমাজকে লড়িয়ে দেওয়া হুমায়ূনের পক্ষে সত্যি মুশকিল। 
তা হলেও হুমায়ূন খানিকটা এখনও তৃণমূলের বলে অনেকেই লিখছেন। এমনও কেউ কেউ বলতে ছাড়েননি, ওর অফিসের ছবিগুলো কি এখনও রয়েছে? লোক জমায়েত কিন্তু প্রচুর হয়েছে এটা সঠিক। কিন্তু এই জনতাকে কি সারা রাজ্যজুড়ে হুমায়ূন বার করতে পারবেন ? যদি পারেন, তবে মুসলিম সমাজ তিন দিকে বিভক্ত হবে। কিন্তু আমার ধারণা নির্বাচনের সময় বামপন্থী ঘরানার মুসলমান পরিবার, তৃণমূলকে গতবারে ভোট দিয়েছিল। শতভাগ না হলেও এই ভোট বেশিটাই তৃণমূলের দিকে গিয়েছিল। অনেকেই হুমায়ূনের এই উদ্যোগকে রাজনীতির রঙ দেখছেন। হুমায়ূন যেভাবে বিষোদগার করছেন ইতিপূর্বেও তাই করেছেন। কারণ হুমায়ূন কবিরের উত্থান এই কারণেই। যে সকল ছাঁপোষা মুসলমান অধীর চৌধুরীর দিকে ছিল, তাদের একত্র করেছে খানিকটা হুমায়ূন। সাধারণ গরিবরা কিন্তু হুমায়ূনের ভোটব্যাঙ্ক, যদিও তা এতদিন তৃণমূলের সৌজন্যে হয়েছিল। কিন্তু এখানে কিন্তু তৃণমূলের হিন্দু ভোটাররা সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছে এই ঘটনায়, যদিও তারা ভোটের সময় তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাবে এই বিশ্বাস হয় না। যে ভোটার হুমায়ূন টানতে পারে তার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। যেখানে যেখানে হুমায়ুনের নতুন দল ভোটে লড়বেন সেখানে সত্যি যদি তারা দল গড়তে পারে তবে, ১০০/৫০০ ভোটে বিজেপির এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিজেপি ভেতরে ভেতরে চাইবে, হুমায়ূন কবিরের দলকে মদত দিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হুমায়ূন যতই হুমকি দিন না কেন মসজিদ গড়তে পারলেও ভোটে লড়ার তার খুব একটা সুবিধা হবে না। এমনও হতে পারে, যারা মসজিদে ডোনেশন দেবে তারাই তৃণমূলকে ভোট দেবে। আর এটাই হওয়া বাস্তবসম্মত। আর যদি হুমায়ূনের এটা সত্যি 
নাটক হয় তবে তো হয়েই গেল...

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বোয়েলিয়া সর্বজনীনের ৫৫ বছর

নারীটের সিংহ পরিবারের দত্ত বাড়ির পুজো