সম্পাদকীয় প্রতিবেদন
গত ১৯৯৩ সাল থেকে আমাদের পথ চলা শুরু হয়েছিল ভোলাগিরি কলা মন্দিরে। সকালে ভোলাগিরি কলামন্দিরের সামনের চত্বরে হয়েছিল প্রদশর্নী। প্রথম দিকে বেশ কয়েক বছর এই অনুষ্ঠান হত হাওড়া টাউন হলে, তারপর হাওড়া শরৎ সদনে। হাওড়ায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সত্যজিৎ রায় মেধা সন্ধান প্রতিযোগিতা, বসে-আঁকো প্রতিযোগিতা, বাংলা ও ইংরেজি হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, সত্যজিৎ রায়ের পোট্রেট অঙ্কন প্রতিযোগিতা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা করে আসছি। এক-এক বছর এইসব প্রতিযোগিতায় ২/৩ হাজার প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিযোগিতার সেন্টার হয়েছে- ঝিখিরা, আমতা, উলুবেড়িয়া, শিবপুর, সালকিয়া, বালি ও মধ্য হাওড়াতে। আজ পর্যন্ত প্রায় বিশ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এতে যোগ দিয়েছে এবং অন্ততপক্ষে ১৫০০ জনকে আজ পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হয়েছে, এই নজির হাওড়াতে আর একটিও নেই।
কিন্তু বর্তমানে এসে আমরা প্রতিযোগিতা আর ব্যাপকভাবে করতে পারিনি। ছোট করে এক একটি স্কুলকে বেছে নিয়ে সেই স্কুলেই প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ রেখেছি। ৩২ বছরের মধ্যে তিন বছর আমরা সম্মাননা প্রদান করতে পারিনি।
গত ২০২২-এ আমরা লিলুয়ার সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিয়ে যোগেশ্বরী মঠের হলে সারাদিনব্যাপী সত্যজিৎ রায় জন্মোৎসব উদযাপন করেছি এবং আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান করেছিলাম।
আগামী দিনে আর কখনও বড় করে অনুষ্ঠান করতে পারা যাবে কিনা আমরা বলতে পারি না। অবশ্যই চেষ্টা জারি থাকবে এই কথা বলতে পারা যায়।
ইতিমধ্যে পরামর্শদাতাদের বহুজন প্রয়াত হয়েছেন। অতুল্য ঘোষের স্নেহধন্যা ও "শতরূপা” পত্রিকার সংগঠক, সমাজসেবী, কবি বীণা চট্টোপাধ্যায় প্রয়াত হয়েছেন। নৃতত্ত্ব বিজ্ঞানী ও পূর্বাঞ্চলীয় ডেপুটি ডিরেক্টর ডঃ শান্তিভূষণ নন্দী, শিক্ষক আন্দোলনের নেতা ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য, নাট্যকার জগমোহন মজুমদার- এনারা সকলেই প্রথম দিন থেকে সংস্থার সঙ্গে ছিলেন. এবং সকলেই প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এনারা সংস্থার সভাপতি ও সহঃ সভাপতি ছিলেন।
আমাদের সৌভাগ্য হয়েছে যে আমরা কলকাতা প্রেসক্লাবের মতো জায়গাতেও সত্যজিৎ রায় জন্মোৎসব উদযাপন অনুষ্ঠান করেছি।
বহুবছর ধরে শিল্পপতি আশীষ কুণ্ডু আমাদের স্মারকটির আর্থিক দায় নিয়েছেন। আমাদের এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এক কাণ্ডারী ছিলেন জয়কুমার সিং (মুন্না), তিনি হঠাৎ করোনার আক্রমণে বিদায় নিয়েছেন।
বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য ও ঐতিহাসিক ডঃ নিমাই সাধন বসু আমাদের এই অনুষ্ঠানটির প্রথম উদ্বোধক ছিলেন। তিনি নিজে হাতে আমাদের একটি চিঠির প্রুফ দেখে দিয়েছিলেন। হাওড়া টাউন হলে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মুরারিমোহন দত্ত আমাদের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন। এশিয়াটিক সোসাইটির সম্পাদক চন্দন রায়চৌধুরী আমাদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। ফিল্ম ডিভিশনের ডিরেক্টর অমর ভট্টাচার্য ছিলেন আমাদের সভাপতি। ডাঃ কেদারনাথ চক্রবর্তী আমাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন একাধিকবার। আনন্দবাজার পত্রিকার দুই পুরনো দিনের ব্যক্তিত্ব শান্তিকুমার মিত্র ও ডঃ শিশির কর তো ছিলেন আমাদের একান্ত পরামর্শদাতা, এনাদের মধ্যে কেউই আর এখন পৃথিবীতে নেই।
আমাদের চার সদস্য অরূপ কাঁড়ার, রূপম পোড়েল, চন্দ্রানী বসু ও অমিত কুমার লাহা দীর্ঘদিন ধরে এই সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমাদের সহঃ সভাপতি বাসন্তী বসু এখন আর অনুষ্ঠানে আসতে পারেন না বয়সের ভারে, ফোনে এখনও খোঁজ নেন। আমাদের একান্ত সুহৃদ ও উপদেষ্টা হাওড়া প্রেস ক্লাবের তাপসকুমার কুণ্ডু ও কাজল সেন প্রয়াত হয়েছেন। জাতীয় শিক্ষক প্রয়াত ব্রজমোহন মজুমদার ছিলেন এই সংস্থার প্রথম পরামর্শদাতা।।
আমাদের বহু অনুষ্ঠানের খবর অতি উচ্চ মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন সংবাদ প্রতিদিনের প্রাক্তন বরিষ্ঠ সাংবাদিক জয়ন্ত সিংহ।
গত ৩১ বছরে যাঁদের আমরা সত্যজিৎ রায় শিরোমণি সম্মাননা ও পুরস্কার জ্ঞাপন করতে পেরেছি তাঁরা সকলেই হাওড়ার কৃতি-সন্তান। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হাওড়ার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে অন্যতম। আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি আমন্ত্রণপত্রে তাঁদের সকলের নাম রয়েছে।
আমাদের অত্যন্ত কাছের মানুষ সুধীরকুমার দে আজ মঞ্চে উপস্থিত আছেন, তিনি "ছড়ায় হাওড়া” বইটি করার সময় সত্যজিৎ রায়ের কাছে গিয়েছিলেন হাওড়ার ওপর ছড়া চাইতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওই ছড়াটি হাতে পাওয়া না গেলেও সত্যজিৎ রায় তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন আমাদের সঙ্গে আছেন। আমাদের কাছে রয়েছে সত্যজিৎ রায়ের মরদেহের দুষ্প্রাপ্য ৩০টি স্থিরচিত্র।
২৪.১১.২৪ বিনীত
অলোককুমার কুন্ড ু
(সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা)।
মন্তব্যসমূহ