• গাড়ি রাখার জায়গাটায় প্রায় ঠাসাঠাসি অবস্থা। আমাদের ব্রেকফাস্ট খাওয়ার প্রশ্ন নেই। অগত্যা কিছুটা আড্ডা দিয়ে আর ছবি তোলা হলো। এমনিতে সোনারবাংলার ভেতরে যে কেউ ঢুকতে পারে। ছোটদের জন্য বেশ অনেকটা জায়গা আছে। সুন্দর করে ছাঁটা ঘাসের সবুজ মাঠ। বোর্ডারদের ঘরগুলো সবই রূপনারায়ণমুখী। আছে দোলনা, সেখানে বড়দের অধিকার বেশি। বেশ অনেকটা জায়গাজুড়ে সুইমিংপুল। বসার চেয়ার। রূপনারায়ণের ধার বরাবর রেলিং দেওয়া বেড়া। এপার ওপার দুই পারের শোভা নিয়ে জল বয়ে চলেছে। তাই অগত্যা খানিকটা দেরি করে আড্ডাদিয়ে আমরা চললাম ওপারে, কোলাঘাটের দিকে। ওপারে বড় বড় হোটেল থেকে অজস্র রেস্টুরেন্ট আছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখে একটা হোটেলে ঢুকে খাওয়া হল, মটনকারি, ইলিশ, আম,দই, চাটনি, পাঁপড়,ডাল, দুরকম তরকারি দিয়ে ভাত। সুপ্রিয় আবার প্রত্যেকের পাতটা একটু সুন্দর করে সাজিয়ে দিল যেন জামাইআদরটুকু আমরা বুঝতে পারি। খেয়েদেয়ে ইচ্ছে ছিল দেউলটিতে শরৎচন্দ্রের বাড়িতে একটু ঢোকার, কিন্তু জানা গেল তার গেট খুলবে বিকাল চারটার পর। অতএব পুণরায় রিটার্ন। চারটের মধ্যে পুণরায় যে যার বাড়ি পৌঁছে গেলাম। ঠিক হল সকলের মত নিয়ে, আবার একমাস পর এইরকম আর একটা হবে। মেয়েরা গল্প করতে করতে পুণরায় রানীহাটিতে এসে, আগে গাড়ি বদল করলো। খানিকটা চললো ফোনাফুনি। হোয়াটসঅ্যাপে ছবি দেওয়া নেওয়া। একটু অক্সিজেনের খোঁজে গিয়েছিলাম। -অলোক কুমার কুন্ডু
একটু অক্সিজেনের খোঁজে / অলোক কুমার কুন্ডু
• হঠাৎ করে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চিনারপার্ক থেকে কৃষ্ণার ফোন এলো আমার বউয়ের কাছে। কিরেআগামীকাল যাওয়া হচ্ছে তো। তোদের কনফারমেশন-টা জানা। রাঁচির সেলের সুপ্রিয় জোয়ারদার ও শিল্পী এখন কলকাতার পাটুলিতে পাকাপাকি ভাবে চলে আসার পর আমাদের তিনটি পরিবারের তেমন কোনো ট্যুর হয়নি। সুপ্রিয় ও সুজিতদার নিজস্ব গাড়ি থাকলেও আমার কোনও গাড়ি নেই। তাতে কি। দুটো গাড়িতে ইজি ৬-জনে আমরা যেখানে খুশি চলে যেতে পারি। তারমধ্যে সুপ্রিয়র গাড়ি চালানোর অভ্যাস বহুদিনের। সুজিত দা চালায় না। একজন ড্রাইভার নিলেই হল। লঙ-ড্রাইভে যাওয়ার ইচ্ছা শিল্পীর। শিল্পী কদিন আগে বিষয়টা জানিয়েছিল। কিন্তু আমি ও সুজিতদার কনফার্ম করা হয়নি। এখন দুটো পরিবার রাজি থাকায়, আমি আর না বলি কীভাবে। যাইহোক ঠিক হল আজ অর্থাৎ রবিবার যাওয়া হবে লঙ-ড্রাইভে। সুজিত দা ও কৃষ্ণা আসবে চিনারপার্ক থেকে দমদম ও নিবেদিতা সেতু হয়ে, আর আমরা দাঁড়াবো বেলে পোলে। জাইকার সামনে। সকাল ১১.০০টায় ওদের গাড়ি আজ রবিবার আমাদের তুলে নিল হাওড়ার বেলেপুল থেকে। অঙ্কুরহাটিতে গিয়ে দুটো গাড়ি পরপর চলতে লাগলো। আরও একটু গিয়ে, নাউপালায় মুম্বাই রোডে নেমে একটু হাতপা ছাড়ানো হলো। হল চা ও বিস্কুট। আমাদের তিনজন পুরুষ সিগারেট খায়না, অতএব নেশার তাড়া নেই। নাউপালায় গিয়ে তিন মহিলা একটা গাড়িতে উঠলো, সুপ্রিয় যেখানে চালক। ওদের একটু বকবকানির সুযোগ দিতেই হবে। আমি আর সুজিত দা পরের গাড়িতে, একজন ড্রাইভার নেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পরেই আমরা ঢুকলাম আড্ডাদিতে, নাউপালার সরকারি ট্যুরিস্ট বাংলোর গায়েই-- সোনারবাংলা-তে। সেখানে বেশ ভিড়। রেস্টুরেন্টে গেলাম খাবার অর্ডার দিতে, বললো, ওদের বোর্ডার আছে। বাফে সিস্টেম আছে। কিন্তু আমাদের ওরা দুটোর আগে কিছু দিতে পারবেনা। আড়াইটেও হয়ে যেতে পারে। আপনারা বরং ব্রেকফাস্ট করে নিন। আমরা বাড়ি থেকে জলখাবার খেয়েই বেরিয়েছি। আসলে রবিবার বলে বেশ ভিড়। কেউ কেউ শনিবার রাত থেকেই আছে এখানে। পরিবার পরিজন নিয়ে আছেন।

মন্তব্যসমূহ