সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একটু অক্সিজেনের খোঁজে / অলোক কুমার কুন্ডু



একটু অক্সিজেনের খোঁজে / অলোক কুমার কুন্ডু 
• হঠাৎ করে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চিনারপার্ক থেকে কৃষ্ণার ফোন এলো আমার বউয়ের কাছে। কিরেআগামীকাল যাওয়া হচ্ছে তো। তোদের কনফারমেশন-টা জানা। রাঁচির সেলের সুপ্রিয় জোয়ারদার ও শিল্পী এখন কলকাতার পাটুলিতে পাকাপাকি ভাবে চলে আসার পর আমাদের তিনটি পরিবারের তেমন কোনো ট্যুর হয়নি। সুপ্রিয় ও সুজিতদার নিজস্ব গাড়ি থাকলেও আমার কোনও গাড়ি নেই। তাতে কি। দুটো গাড়িতে ইজি ৬-জনে আমরা যেখানে খুশি চলে যেতে পারি। তারমধ্যে সুপ্রিয়র গাড়ি চালানোর অভ্যাস বহুদিনের। সুজিত দা চালায় না। একজন ড্রাইভার নিলেই হল। লঙ-ড্রাইভে যাওয়ার ইচ্ছা শিল্পীর। শিল্পী কদিন আগে বিষয়টা জানিয়েছিল। কিন্তু আমি ও সুজিতদার কনফার্ম করা হয়নি। এখন দুটো পরিবার রাজি থাকায়, আমি আর না বলি কীভাবে। যাইহোক ঠিক হল আজ অর্থাৎ রবিবার যাওয়া হবে লঙ-ড্রাইভে। সুজিত দা ও কৃষ্ণা আসবে চিনারপার্ক থেকে দমদম ও নিবেদিতা সেতু হয়ে, আর আমরা দাঁড়াবো বেলে পোলে। জাইকার সামনে। সকাল ১১.০০টায় ওদের গাড়ি আজ রবিবার আমাদের তুলে নিল হাওড়ার বেলেপুল থেকে। অঙ্কুরহাটিতে গিয়ে দুটো গাড়ি পরপর চলতে লাগলো। আরও একটু গিয়ে, নাউপালায় মুম্বাই রোডে নেমে একটু হাতপা ছাড়ানো হলো। হল চা ও বিস্কুট। আমাদের তিনজন পুরুষ সিগারেট খায়না, অতএব নেশার তাড়া নেই। নাউপালায় গিয়ে তিন মহিলা একটা গাড়িতে উঠলো, সুপ্রিয় যেখানে চালক। ওদের একটু বকবকানির সুযোগ দিতেই হবে। আমি আর সুজিত দা পরের গাড়িতে, একজন ড্রাইভার নেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পরেই আমরা ঢুকলাম আড্ডাদিতে, নাউপালার সরকারি ট্যুরিস্ট বাংলোর গায়েই-- সোনারবাংলা-তে। সেখানে বেশ ভিড়। রেস্টুরেন্টে গেলাম খাবার অর্ডার দিতে, বললো, ওদের বোর্ডার আছে। বাফে সিস্টেম আছে। কিন্তু আমাদের ওরা দুটোর আগে কিছু দিতে পারবেনা। আড়াইটেও হয়ে যেতে পারে। আপনারা বরং ব্রেকফাস্ট করে নিন। আমরা বাড়ি থেকে জলখাবার খেয়েই বেরিয়েছি। আসলে রবিবার বলে বেশ ভিড়। কেউ কেউ শনিবার রাত থেকেই আছে এখানে। পরিবার পরিজন নিয়ে আছেন।

       • গাড়ি রাখার জায়গাটায় প্রায় ঠাসাঠাসি অবস্থা। আমাদের ব্রেকফাস্ট খাওয়ার প্রশ্ন নেই। অগত্যা কিছুটা আড্ডা দিয়ে আর ছবি তোলা হলো। এমনিতে সোনারবাংলার ভেতরে যে কেউ ঢুকতে পারে। ছোটদের জন্য বেশ অনেকটা জায়গা আছে। সুন্দর করে ছাঁটা ঘাসের সবুজ মাঠ। বোর্ডারদের ঘরগুলো সবই রূপনারায়ণমুখী। আছে দোলনা, সেখানে বড়দের অধিকার বেশি। বেশ অনেকটা জায়গাজুড়ে সুইমিংপুল। বসার চেয়ার। রূপনারায়ণের ধার বরাবর রেলিং দেওয়া বেড়া। এপার ওপার দুই পারের শোভা নিয়ে জল বয়ে চলেছে। তাই অগত্যা খানিকটা দেরি করে আড্ডাদিয়ে আমরা চললাম ওপারে, কোলাঘাটের দিকে। ওপারে বড় বড় হোটেল থেকে অজস্র রেস্টুরেন্ট আছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখে একটা হোটেলে ঢুকে খাওয়া হল, মটনকারি, ইলিশ, আম,দই, চাটনি, পাঁপড়,ডাল, দুরকম তরকারি দিয়ে ভাত। সুপ্রিয় আবার প্রত্যেকের পাতটা একটু সুন্দর করে সাজিয়ে দিল যেন জামাইআদরটুকু আমরা বুঝতে পারি। খেয়েদেয়ে ইচ্ছে ছিল দেউলটিতে শরৎচন্দ্রের বাড়িতে একটু ঢোকার, কিন্তু জানা গেল তার গেট খুলবে বিকাল চারটার পর। অতএব পুণরায় রিটার্ন। চারটের মধ্যে পুণরায় যে যার বাড়ি পৌঁছে গেলাম। ঠিক হল সকলের মত নিয়ে, আবার একমাস পর এইরকম আর একটা হবে। মেয়েরা গল্প করতে করতে পুণরায় রানীহাটিতে এসে, আগে গাড়ি বদল করলো। খানিকটা চললো ফোনাফুনি। হোয়াটসঅ্যাপে ছবি দেওয়া নেওয়া। একটু অক্সিজেনের খোঁজে গিয়েছিলাম।   -অলোক কুমার কুন্ডু

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যাঃ অলোককুমার কুণ্ডু

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যাখ্যা/ অলোক কুমার কুণ্ডু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের জটিলতা নেই। কিন্তু চায়ের দোকানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া লোকজন এটাকে জটিল করছে। আজ একজন একটা ব্যাঙ্কের মধ্যে বলছিল একজনকে পাবেন না। আমি তাঁকে বললাম শুধু আপনার নামে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর আধারে যুক্ত থাকতে হবে। এইটুকু থাকলেই হবে। যা আছে সব সত্যি দেবেন। যা নেই দেওয়ার জায়গায় না লিখবেন। সবাই পারবে। যদি আপনি নিজে চাকরি/ পেনশন/ ফ্যামিলি পেনশন পেয়ে থাকেন পাবেন না। আয়কর ফাইল জমা করলেই আয়করের আওতায় পড়বেন না বহুজন তাই চিন্তা নেই যা সত্যি জানাবেন। আপনি পাবেন। আপনি যদি টেম্পোরারি বা কন্ট্রোকচ্যুয়াল বেসিসে কাজ করেন তাতেও পাবেন। সবার আগে চাই আপনার নামে রেশন কার্ড। বাড়ির কারো সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলে সেই অ্যাকাউন্ট এখানে দেবেন না। যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধন ব্যাংকে ছিল। ওইসব ব্যাঙ্কে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাবে না। তাই "ন্যাশনাল ব্যাংক"-কে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে তার সঙ্গে আধার আগে যুক্ত করুন। আধার লিঙ্ক না থাকলে আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকবে না য...

তৃণমূল গ্রামেগঞ্জে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে

           অভিষেক না হয় ধরে নেওয়া হলো একটা আনাড়ি, টাকার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি, ছোট থেকে অঢেল হাতে টাকা পয়সা বাড়িতে আসতে দেখে অর্থের পেছনে ছুটেছিল। ভালোমন্দ পেয়ে, আরো খাই আরো খাই করেছে। কিন্তু যে মমতা ব্যানার্জী দিনের পর দিন বাম জমানার খুন জখমের বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়েছিলেন একদা। লড়াকু নেত্রী হিসেবে উঠে এসে তিনি কীভাবে মানুষকে দিনের পর দিন নিপীড়ন করতে দেখেও সব ছেড়ে দিলেন গা ভাসালেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পুলিশ অফিসার, কোনও এমন কেউ একজন ছিলেন না, যিনি একটি বারও সতর্ক করলেন না তাঁকে। এত কাগজে লেখালিখি হলো, এত মিডিয়া কভারেজ হলো, কিছুই তিনি দেখলেন না। লকাপে পিটিয়ে মারা হলো, গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে গেল একের পর একটা পরিবার। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্ট এত করে বললেন বিচারপতিরা। সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী ভ্যানিশ করে দিলেন। এত রিগিং হলো। ভোট দিতে পারলো না শত শত লোক। খুনের পর খুন হয়ে গেল। বাড়ির পর বাড়ি জ্বললো। সব উনি দেখেও দেখলেন না। একটা ঘটনা নয়।             প্রতিটি জেলায় শত শত ঘটনাকে এইভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী দেখেও দেখলেন না ...

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক লাইভে আর কিছু হওয়ার নেইঃ অলোককুমার কুণ্ডু

মমতা ব্যানার্জীর যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার ওপর তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত, কিন্তু নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে এখনও তাঁর অগাধ বিশ্বাস যে, তিনি হারতে পারেন না। অথচ আমার যারা লেখা পড়েন তাঁরা জানেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যখন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেদিন মঞ্চ থেকে বললেন তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন দখল করবে। সঙ্গে সঙ্গে আমি চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকে লিখলাম, তৃণমূল ৮০ টার বেশি পাবে না। এই ৮০ টা হিসেব করেছিলাম ৮৫টি মুসলমান সিটের দিকে তাকিয়ে। তার মধ্যে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ফস্কে বেরিয়ে গেলেন। আমার ধারণার বাইরে হলেও এইসব এরিয়ায় বেশ কিছু মুসলমান ভোট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ফলে সমস্ত এলাকার মতোই, এইসব এলাকার ভোটারদের দুভাবে প্রভাবিত করার ব্যাপক একটা চেষ্টা করা হয়েছিল, তৃণমূলের পক্ষে। ব্রেইনওয়াশ ও হাতে কিছু অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায় এবং মানুষকে, মমতা ব্যানার্জীর বোকা বানানোর দীর্ঘ কৌশল জানা রয়েছে। তিনি এই কৌশলটি অবলম্বন করে একের পর এক "ভাতা" সৃষ্টি করে গেছেন। এই খুচরো খুচরো ভাতা দিয়ে...